Last Updated:
কুণাল ঘোষ হলেন উত্তর কলকাতা সভাপতি। এতদিন কোর কমিটি উত্তর কলকাতা সামলাত। চেয়ারম্যান ছিলেন সুদীপ বন্দোপাধ্যায়।
কলকাতা: একুশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলে উল্কাগতিতে উদয় হয় টেলিভিশন এবং টলিউডের পরিচিত মুখ সায়নী ঘোষের৷ কোনও এক টেলিভিশন শো’য়ে তাঁর মন্তব্য ভাইরাল হওয়ার পর পরই দেখা যায়, তৃণমূলে কোনও রকম নিচুস্তরের সংগঠনে না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে করা হয় যুবনেত্রী৷ সেই দায়িত্ব থেকেই সরলেন যাদবপুরের তৃণমূল সাংসদ। দায়িত্ব পেলেন অর্ণব বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, ‘আমরা সায়নী ঘোষের তরফ থেকে কোনও চিঠি পাইনি। তাই নতুন যুবসভাপতি হলেন অর্ণব।’
ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয়ের পর থেকেই তাঁর খোঁজ পাওয়ার যাচ্ছিল না৷ একসময় যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভারতের পরবর্তী ‘প্রধানমন্ত্রী’ হিসাবে তুলে ধরেছিলেন, সবসময় নেত্রীর আশপাশে থাকতে দেখা যেত যাঁকে, কানাঘুষো শোনা যাচ্ছে, সেই সায়নী ঘোষই নাকি ঘনিষ্ঠ মহলে বলেছেন, ‘‘ওখানে আর ভবিষ্যৎ নেই৷’’ এমনকি, এনডিএ-র শরিক হতে চেয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে লেখা বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদদের চিঠিতে সায়নী ঘোষও সই করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে৷ কিন্তু, তাঁকে সশরীরে দেখা যাচ্ছিল না কোথাও৷ দু-দিন আগে দিল্লি থেকে ফেরেন সায়নী। মাস্কে মুখ ঢেকে, টুপি পরে। আর সায়নীর সেই মুখ ঢেকে বিমানবন্দর থেকে বেরনোর ছবি দেখে, ‘করোনাকালের ছবি’ বলে কটাক্ষ করেন কুণাল ঘোষ।
এই একই দিনে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়ে দল ছাড়লেন সবং-এর পরাজিত তৃণমূল প্রার্থী মানসরঞ্জন ভুঁইয়া। তিনি ছিলেন একসময়ের দাপুটে তৃণমূল নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রী। কিন্তু, পালাবদলের হাওয়ায় গেরুয়া ঝড়ে কার্যত উড়ে গিয়েছেন সবংয়ের প্রাক্তন বিধায়ক মানস ভুঁইয়া। নিজের হার প্রসঙ্গে তিনি বলেছিলেন, “আমি ক্যাপ্টেন আমি দায়ী, আমি এই হার,জনগণের রায় মাথা পেতে নিলাম। কোথায় কোন ত্রুটি বিচ্যুতি হয়েছে কিনা তা পর্দার আড়ালে আলোচনা করে দেখছি।” পাশাপাশি রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসা করেও তিনি বলেছিলেন, “উনিও মেদিনীপুরের ছেলে, আমিও মেদিনীপুরের ছেলে। আমি গর্ববোধ করি, একজন মেদিনীপুরের ছেলে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। তাঁর প্রকল্প যেগুলো ঘোষণা করেছেন সেগুলো বাস্তবে রূপ দিক এবং সবং জুড়ে যে সন্ত্রাস চলছে সেই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই।” পদ্মশিবিরের ডবল সেঞ্চুরির সুনামিতে কার্যত ধুয়ে গিয়েছে বাংলার বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর নাম। সেই তালিকায় ছিলেন প্রাক্তন সেচমন্ত্রী মানসও।
তাসের ঘরের মতো ভাঙছে তৃণমূল। রাজ্যসভায় পরপর ইস্তফার জল্পনার মধ্যেই এবার লোকসভাতেও বড়সড় ধসের ইঙ্গিত। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়েছেন তৃণমূলের ২০ জন বেসুরো সাংসদ। সেই এক্সক্লুসিভ চিঠি হাতে এসেছে নিউজ18 বাংলার। সূত্রের দাবি, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের নেতৃত্বে লোকসভায় আলাদা ব্লক গঠনের দাবি জানিয়ে এই চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে সই করেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সায়নী ঘোষ, শতাব্দী রায়, অরূপ চক্রবর্তী, দেব, জুন মালিয়া, কালীপদ সোরেন, পার্থ ভৌমিক, বাপি হালদার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, শর্মিলা সরকার, জগদীশ বসুনিয়া, অসিত মাল, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, খলিলুর রহমান, আবু তাহের খান, ইউসুফ পাঠান, মিতালি বাগ এবং মালা রায়-সহ মোট ২০ জন সাংসদ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে নাম লিখিয়েছেন তৃণমূলের অন্যতম পুরনো এবং প্রবীণ নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়৷
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
