রবিবার সুইজারল্যান্ডের লুসার্ন হ্রদের উপরে অবস্থিত বিলাসবহুল বুর্গেনস্টক রিসর্টে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও কাতারের প্রতিনিধিদল বৈঠকে বসে। কাতার সরকার বিকেলে নিশ্চিত করে যে চার পক্ষের এই আলোচনা শুরু হয়েছে।
বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী। তবে এই জলপথ খোলা থাকবে কি না, তা নিয়ে তেহরানের পরস্পরবিরোধী বার্তার জেরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
শনিবার ইরানের সামরিক নেতৃত্ব ঘোষণা করে যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধ করা হবে। তাদের অভিযোগ, লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইসরায়েল এবং যুদ্ধের অবসান ঘটাতে প্রস্তাবিত চুক্তির প্রথম শর্ত মানেনি যুক্তরাষ্ট্র।
সাময়িক বৃদ্ধি, তারপর ফের কমল জাহাজ চলাচল
গত ১৮ জুন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরের পর হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল কিছুটা বেড়েছিল। তবে সেই পরিস্থিতি বেশিদিন স্থায়ী হয়নি।
সামুদ্রিক বিশ্লেষক সংস্থা উইন্ডওয়ার্ড জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার ১৯টি জাহাজ—যার মধ্যে একাধিক তেলবাহী ট্যাঙ্কারও ছিল—হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করে। এতে ধারণা করা হচ্ছিল, কয়েক সপ্তাহের অস্থিরতার পর বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরছে। কিন্তু শনিবার ইরান পুনরায় প্রণালী বন্ধের ঘোষণা দেওয়ার পর পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যায়।
রবিবার সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক বার্তায় উইন্ডওয়ার্ড জানায়, জাহাজ চলাচল নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। সংস্থার বক্তব্য, “আগেই অনিশ্চিত এই করিডরে ফের দ্বিধা ও উদ্বেগ ফিরে এসেছে।” তারা আরও জানায়, রাতভর কোনও জাহাজের এআইএস (Automatic Identification System) সিগন্যাল রেকর্ড করা যায়নি।
রবিবার সকালে হরমুজ প্রণালীতে মাত্র দুটি ইরান ব্যাতীত অন্যান্য দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ দেখা গিয়েছে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
লেবানন যুদ্ধবিরতির সঙ্গে জড়িয়ে হরমুজ খোলার প্রশ্ন
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষয়টি এখন বৃহত্তর কূটনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। রাষ্ট্র-সমর্থিত সংবাদ সংস্থাগুলির উদ্ধৃতি অনুযায়ী, লেবাননে যুদ্ধবিরতি পুরোপুরি কার্যকর না হওয়া এবং ইরানের তেল রপ্তানির ওপর থাকা বিধিনিষেধ শিথিল না করা পর্যন্ত প্রণালী বন্ধই থাকবে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার পর শুরু হওয়া সংঘাতের যুদ্ধবিরতি আরও বাড়ানো হয়েছিল। সেই চুক্তিতে লেবাননে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘর্ষ বন্ধের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে যুদ্ধবিরতির পরও লেবাননে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এর জেরেই ইরান আবারও হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী চুক্তির অংশ হিসেবেই ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস পরিবহন রুট খুলে দিয়েছিল।