Last Updated:
ইতিমধ্যেই রাম মন্দিরের টাকা সরানোর এই অভিযোগের তদন্তে সিট গঠন করেছে উত্তর প্রদেশ সরকার।
একজন সিসিটিভি ক্যামেরার সামনে আড়াল করতেন। অন্যজন মন্দিরের প্রণামী বাক্স থেকে টাকা সরাতেন। এভাবেই দিনের পর দিন অযোধ্যার রাম মন্দিরের ভিতরে চলছিল টাকা চুরির চক্র।
এনডিটিভি-তে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, মন্দিরে টাকা গোনার কাজে নিযুক্ত কর্মীদের একাংশই এই চক্রে জড়িত ছিলেন। রাম মন্দিরে চুরির ঘটনা সামনে আসার পর থেকেই এরকম চমকে দেওয়া একাধিক তথ্য হাতে পেয়েছে পুলিশ।
এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই ৮ জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নৈতিক ভাবে এই ঘটনার দায় নিয়ে মন্দিেরর অছি পরিষদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন দুই সদস্য চম্পত রাই এবং অনিল মিশ্র। ধৃতদের জেরা করে এই চক্রে আর কারা জড়িত, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।
প্রণামী বাবদ যে টাকা জমা পড়ে, তা ব্যাঙ্কে জমা করেন রাম মন্দির কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ব্যাঙ্কে জমা পড়া টাকার হিসেব খতিয়ে দেখতে গিয়েই সম্প্রতি তাদের সন্দেহ হয়। সেই সন্দেহের বশেই দৈনিক প্রণামী বাক্স খালি করে জমা পড়া টাকা সংগ্রহের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। তখনই টাকা সংগ্রহের সময় বেশ কিছু গরমিল ধরা পড়ে। সাধারণত এক একটি প্রণামী বাক্সে ৬ থেকে ৭ লক্ষ টাকা জমা পড়ে৷ কিন্তু পর পর কয়েকটি সপ্তাহে ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিলের হিসেব মিলছিল না৷
এর পরই যে ঘরে টাকা গোনা হয়, সেখানে চুপচাপ কয়েকটি গোপন ক্যামেরা লাগানো হয়৷ তাতে টাকা সরানোর বিষয়টি ধরা পড়ে যায়৷ পর পর কয়েক সপ্তাহের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে দেখা যায়, গণনার কাজে যুক্ত একজন কর্মী ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে পড়তেন৷ তখনই অন্য আর একজন নোটের বান্ডিল সরিয়ে নিয়ে জামাকাপড়ের ভিতরে লুকিয়ে ফেলতেন৷
জানা গিয়েছে, চুরির টাকা মন্দির চত্বরের বাথরুমের ভিতরে লুকিয়ে রাখত অভিযুক্তরা৷ পরে সুযোগ মতো সেই টাকা মন্দির চত্বরের বাইরে নিয়ে গিয়ে নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নিত অভিযুক্তরা৷
সূত্রের খবর, ২০২৪ সালে রাম মন্দির খোলার সময় থেকেই এই চক্র সক্রিয় হয়েছিল৷ বিশেষ তদন্তকারী দলের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী চলতি বছরের ২৭ এপ্রিল থেকে ৫ জুনের মধ্যেই সিসিটিভি ক্যামেরায় ৭০টি চুরির ঘটনা ধরা পডে়ছে৷
দুই অভিযুক্ত টিন্নু যাদব এবং সুভাষ শ্রীবাস্তবকে জেরা করে তদন্তকারীরা বেশ কয়েকজন ব্যাঙ্ক কর্মীরও নাম পেয়েছেন৷ ওই সন্দেহভাজন ব্যাঙ্ক কর্মীরা এবং আরও কয়েকজন সরকারি আধিকারিকদেরও কয়েকদিনের মধ্যে গ্রেফতার করার সম্ভাবনা রয়েছে৷
সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত চুরি যাওয়া টাকার পরিমাণ ৭ থেকে সাড়ে ৭ কোটি বলে জানা গিয়েছে৷ যদিও টাকার আসল পরিমাণ কত, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি৷ এখনও পর্যন্ত চুরি যাওয়া টাকার মধ্যে ৭০ লক্ষ টাকা মতো উদ্ধার হয়েছে৷
Kolkata,West Bengal
