Last Updated:
ACP Daya Nayak ভারতের অন্যতম পরিচিত পুলিশ অফিসার, যিনি মুম্বই পুলিশের অপরাধ দমন শাখায় দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। আন্ডারওয়ার্ল্ড, গ্যাংস্টার এবং সংগঠিত অপরাধের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। তাঁর কর্মজীবনে বহু বড় অপরাধীকে গ্রেফতার এবং একাধিক পুলিশ অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তিনি আলোচনায় উঠে আসেন।
কমলিকা সেনগুপ্ত, কলকাতা: বারুইপুরে গভীর রাতে এনকাউন্টার। অনেকেরই মনে পড়ে যাচ্ছে মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন ACP দয়া নায়েকের কথা। যাঁকে অনেকে বলেন এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট। তাঁকে নিয়েই নাকি তৈরি হয়েছিল বলিউডের বিখ্যাত সিনেমা…অব তক ছপ্পন। বারুইপুরের ঘটনা নিয়ে কী বললেন তিনি? এক্সক্লুসিভ নিউজ18 বাংলায়।
বারুইপুরে এনকাউন্টার কী বলছেন দয়া নায়েক?
বারুইপুরে নাবালিকাকে গণধর্ষণ-খুন। মঙ্গলবার গভীর রাতে এনকাউন্টার। অন্যতম অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডলের মৃত্যু। এই ঘটনা অনেককেই মনে করিয়ে দিচ্ছে দয়া নায়েকের কথা। মহারাষ্ট্র পুলিশের প্রাক্তন এসিপি। মুম্বই পুলিশের দাপুটে কর্তা। অনেকে তাঁকে ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ বলেন। একটা সময় যাঁর ভয়ে হাঁটু কাঁপতো মুম্বইয়ের আন্ডার ওয়ার্ল্ডের। কুখ্যাত গ্যাংস্টাররা থাকতো তাঁর হিটলিস্টে। একে একে ফিনিশ। অনেকে বলেন, দয়া নায়েক নাকি ৮০-র কাছাকাছি এনকাউন্টার করেছেন। রিয়েলের দাপুটে পুলিশ। রিলেও হিরো। তাঁকে নিয়েই নাকি ‘অব তক ছপ্পন’। বারুইপুরের এনকাউন্টার নিয়ে কী বলছেন এহেন দয়া নায়েক।
‘পুলিশ কি দাঁড়িয়ে গুলি খাবে’?
মহারাষ্ট্রের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার হিসেবে তিনি রিটায়ার করেন। সেই দয়া নায়েক কথা বললেন নিউজ18 বাংলার সঙ্গে। তিনি বলেন, পুলিশের দিকে বন্দুক তাক করলে পুলিশের আত্মরক্ষার অধিকার আছে। পুলিশ তো আর দাঁড়িয়ে থেকে গুলি খাবে না। প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হলে আইন মেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অধিকার পুলিশের আছে। পুলিশ যা পদক্ষেপ করে সবই আইনি দাঁড়িপাল্লায় মেপে দেখা হয়। অর্থাৎ পুলিশ যা যা পদক্ষেপ নেয় সেটা আইনি দাঁড়িপাল্লায় মেপেই নেয়। আইন মেনে কাজ করতে পুলিশ বাধ্য। সশস্ত্র হামলাকারীর হাত থেকে বাঁচতে পুলিশ বাধ্যে হয়ে বল প্রয়োগ যদি কেউ করে আমার মতে সেটি ঠিক কাজ। এটা উনি বলেন। পুলিশের দিকে গুলি চালানো গুরুতর অপরাধ। আত্মরক্ষার অধিকার আছে পুলিশের।

দয়া নায়েক। যাঁর জীবন সিনেমাকেও হার মানাবে। তাঁর জন্ম কর্ণাটকের একটি গ্রামে ৷ সেভেন পাস করে রোজগারের জন্য মুম্বইয়ে পাড়ি দেন ৷ সাধারণ একটি হোটেলে কাজ শুরু করেন ৷ দিনে কাজ এবং রাত জেগে পড়াশোনা ৷ এভাবেই টুয়েলভ পাশ করেন। এবং তারপরে গ্র্যাজুয়েশন।
ছোট থেকেই পুলিশে চাকরি করার স্বপ্ন দেখতেন দয়া নায়েক। সেই স্বপ্ন সফল হয় ১৯৯৫ সালে। মুম্বইয়ে তখন আন্ডার ওয়ার্ল্ডের সূর্য মধ্য গগনে। মায়ানগরীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ডি কম্পানি। দাউদ ইব্রাহিম, ছোটা রাজন। গ্যাং-ওয়ার। একের পর এক এনকাউন্টার। ১৯৯৬। দয়া নায়েককে লক্ষ করে গুলি চালায় ছোটা রাজনের গ্যাং ৷ আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালিয়ে দু’জনকে খতম করেন দয়া। সেটাই দয়ার প্রথম এনকাউন্টার ৷ প্রথম এনকাউন্টারেই খতম হয় আন্ডারওয়ার্ল্ডের দুই গ্যাংস্টার।
এরপর একের পর এক অপারেশন। এনকাউন্টার। সিনেমায় অব তক ছপ্পন। কিন্তু বাস্তবে ‘অব তক আশি’। যার শেষটা হয়েছিল ২০০৪ সালে।
মালাডে এক গ্যাংস্টারকে খতম করেন দয়া নায়েক। এই ঘটনার পর থেকে বাঘা এই পুলিশ অফিসারের বন্দুক চুপ। গত বছর রিটায়ার করেন দয়া নায়েক। বারুইপুরে এনকাউন্টার নিয়ে নিউজ এইটিন বাংলাকে এক্সক্লুসিভ প্রতিক্রিয়া মহারাষ্ট্রের এই দাপুটে পুলিশকর্তার। মহারাষ্ট্রের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার হিসেবে তিনি রিটায়ার করেন। সেই দয়া নায়েকের সাফ কথা, ‘‘পুলিশের দিকে বন্দুক তাক করলে পুলিশের আত্মরক্ষার অধিকার আছে। পুলিশ তো আর দাঁড়িয়ে থেকে গুলি খাবে না।’’
Kolkata,West Bengal
