যদিও নতুন ভোটারদের জন্য অফলাইনে যে ফর্ম রয়েছে, তাতে এখনও পর্যন্ত এই ডিক্ল্যারেশনের উল্লেখ নেই৷ দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এমনই দাবি করা হয়েছে৷ ফলে একই ফর্মের অনলাইন এবং অফলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে দু রকম নিয়ম কেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে৷
ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশনের ECINET পোর্টালে ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য অনলাইনে আবেদনের জন্য যে প্রক্রিয়া রয়েছে, সেখানেই এই অতিরিক্ত ডিক্ল্যারেশন-এর কথা বলা হয়েছে৷ কিন্তু কমিশনের পোর্টালেই ফর্ম সিক্স-এর যে ভার্সন ডাউনলোড করে অফলাইনে জমা দিতে হয়, তাতে আবার এই ডিক্ল্যারেশন-এর কথার উল্লেখ নেই৷
গত বছর সবমিলিয়ে ১০টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর-এর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেছে নির্বাচন কমিশন৷ সেই প্রক্রিয়ায় সবমিলিয়ে সাড়ে পাঁচ কোটিরও বেশি নাম বাদ পড়েছে৷ এই পরিস্থিতিতে কমিশনের এই নতুন নির্দেশিকায় জল্পনা ছড়িয়েছে৷
অনলাইন ফর্ম ৬-এ আবেদনকারীদের তিনটি ঘোষণাপত্র বা ডিক্ল্যারেশন-এর মধ্যে থেকে যে কোনও একটি বেছে নিতে হবে৷
সর্বশেষ এসআইআর-এর পর আবেদনকারীর নাম ভোটার তালিকায় আছে৷
সর্বশেষ এসআইআর-এর পর আবেদনকারীর বাবা, মা অথবা দাদু-ঠাকুমার মধ্যে একজনের নাম এসআইআর-এ আছে৷
সর্বশেষ এসআইআর-এর পর আবেদনকারীর নিজের অথবা তাঁর পরিবারের বাবা-মা, দাদু ঠাকুমার মধ্যে একজনের নামও ভোটার তালিকায় নেই৷
যদি কোনও আবেদনকারী প্রথম দুটি অপশনের মধ্যে যে কোনও একটি বাছেন তাহলে তাঁকে সংশ্লিষ্ট বিধানসভা, বুথের নম্বর এবং ভোটার তালিকায় নামের সিরিয়াল নম্বর উল্লেখ করতে হবে৷
আর কারও কাছে এই সমস্ত তথ্য না থাকলে তাঁদের তিন নম্বর অপশনটিই বেছে নিতে হবে৷ ফর্মে এই ডিক্ল্যারেশন দেওয়া বাধ্যতামূলক বলা হয়নি৷ কিন্তু এই ডিক্ল্যারেশন না দিলে অনলাইনে আবেদন জমাও করা যাচ্ছে না বলে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে৷
তাছাড়া তৃতীয় অপশনটি কেউ যদি সিলেক্ট করেন, তার ফল কী হবে, সেকথাও কমিশনের পোর্টালে উল্লেখ করা নেই৷ ওই প্রতিবেদনেই দাবি করা হয়েছে, যে রাজ্য অথবা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর শেষ হয়েছে অথবা এসআইআর চলছে, সেই সব রাজ্যেই নতুন আবেনকারীদের ক্ষেত্রে এই ডিক্ল্যারেশন দেখানো হচ্ছে৷ শুধুমাত্র বিহার এবং অসমে এই ডিক্ল্যারেশন দিতে হচ্ছে না৷ বিহারে গতবছর জুন মাসে এসআইআর শেষ হয়৷ আর অসমে এসআইআর না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন৷