সংবাদ সংস্থা ANI সূত্রে জানা গিয়েছে, AIIMS-এর মেডিক্যাল বোর্ডের ল্যাবরেটরি ও হিস্টোপ্যাথোলজিক্যাল পরীক্ষায় লিগেচার (গলায় ফাঁস দেওয়ার উপকরণ) হিসেবে উল্লেখ করা ধাতব রিং-যুক্ত জিমন্যাস্টিক্স বেল্টে ত্বকের টিস্যুর উপস্থিতি মিলেছে। এছাড়াও পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ওই লিগেচার উপকরণটি ত্বিশা শর্মার গলায় পাওয়া আঘাতের চিহ্নের সঙ্গে মিল রয়েছে।
তবে মেডিক্যাল বোর্ডের চূড়ান্ত মতামত এখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি। আদালতের নির্দেশ মেনে সেটি সিলবন্দি খামে CBI-এর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। AIIMS-এর ১১ পাতার ফরেন্সিক রিপোর্ট শুক্রবার CBI-এর হাতে তুলে দেওয়া হয়। মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের নির্দেশ এবং পরবর্তী সময়ে সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী রিপোর্টের কোনও অংশ প্রকাশ করা হয়নি।
প্রথম ময়নাতদন্তে একটি গুরুত্বপূর্ণ ফরেন্সিক প্রশ্নের উত্তর মেলেনি। তাই সেই বিতর্ক মেটাতেই আদালত দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয়।
AIIMS মেডিক্যাল বোর্ডের সামনে মূল প্রশ্ন ছিল, ধাতব রিং-যুক্ত জিমন্যাস্টিক্স বেল্টটি আদৌ গলায় ফাঁস দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত লিগেচার উপকরণ ছিল কি না এবং সেটি ত্বিশা শর্মার গলায় পাওয়া আঘাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।
প্রথম ময়নাতদন্তের সময় ওই লিগেচার উপকরণটি মেডিক্যাল বোর্ডের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে সেই পর্যায়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। এরপরই মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্ট AIIMS দিল্লির স্বাধীন মেডিক্যাল বোর্ড দিয়ে নতুন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয়।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী AIIMS-এর ডিরেক্টর ফরেন্সিক মেডিসিন বিভাগের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে পাঁচ সদস্যের একটি মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করেন।
গত ২৪ মে এই বোর্ড দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত করে। তদন্তের অংশ হিসেবে তারা ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করেন।
সমস্ত ফরেন্সিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষ করে মেডিক্যাল বোর্ড ১০ জুলাই তাদের ১১ পাতার বিস্তারিত রিপোর্ট সিলবন্দি খামে CBI-এর হাতে জমা দেয়। আদালতের নির্দেশ মেনে রিপোর্ট জমা দেওয়ার বিষয়টি মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকেও জানানো হয়েছে।
রিপোর্টের বিষয়বস্তু প্রকাশ করতে অস্বীকার করে AIIMS দিল্লির ফরেন্সিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সুধীর গুপ্ত বলেন, মেডিক্যাল বোর্ড মামলার প্রতিটি দিক অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে খতিয়ে দেখেছে।
ডা. গুপ্তর কথায়, “মেডিক্যাল বোর্ড মামলার প্রতিটি দিক অত্যন্ত বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছে। প্রায় এক মাস ধরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমস্ত প্রাসঙ্গিক গবেষণাপত্র বিবেচনা করে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাসহ একটি বিস্তারিত মতামত দেওয়া হয়েছে। সত্য ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে CBI এবং বিচারব্যবস্থার জন্য এটি একটি একেবারে স্পষ্ট মতামত।”
তবে তিনি আর কোনও মন্তব্য করতে চাননি। তাঁর বক্তব্য, হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে রিপোর্ট ইতিমধ্যেই সিলবন্দি খামে CBI-এর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।
অবসরপ্রাপ্ত প্রিন্সিপাল ডিস্ট্রিক্ট অ্যান্ড সেশনস জজ গিরিবালা সিংহের পুত্রবধূ ত্বিশা শর্মাকে চলতি বছরের শুরুতে ভোপালে তাঁর শ্বশুরবাড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্ত এবং প্রথম ময়নাতদন্তে একাধিক গাফিলতির অভিযোগ তুলে ত্বিশার পরিবার মধ্যপ্রদেশ হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়। এরপর হাই কোর্ট AIIMS দিল্লিকে দিয়ে দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেয় এবং পরে গোটা তদন্তভার CBI-এর হাতে তুলে দেয়।