যদিও প্রায় সব সরকারি হাসপাতালেই সাপের বিষের প্রতিষেধক (অ্যান্টিভেনম) মজুত থাকে, তবে অনেক সময় তা দ্রুত পাওয়া যায় না। সেক্ষেত্রে যদি কোনও ব্যক্তিকে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে হয়, তাহলে সেই চিকিৎসার খরচ কি স্বাস্থ্যবিমা (Health Insurance) বহন করবে? আবার সাপের কামড়ে মৃত্যু হলে টার্ম ইন্স্যুরেন্স বা জীবনবিমা থেকে কি ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাবে? এই প্রশ্ন অনেকেরই মনে আসে।
সম্প্রতি আমেরিকায় এমন একটি ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে এক ব্যক্তিকে দু’বার সাপ কামড়ায়। তাঁর শরীর থেকে বিষের প্রভাব দূর করতে ৫৪টি অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন দিতে হয়। হাসপাতালের চিকিৎসা বাবদ তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় প্রায় ১১ কোটি টাকার বিল। এই ঘটনার পর অনেকেরই প্রশ্ন—ভারতে এমন পরিস্থিতি হলে স্বাস্থ্যবিমা সংস্থাগুলি কি চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ বহন করবে?
স্বাস্থ্যবিমায় কি সাপের কামড়ের চিকিৎসার খরচ মেলে?
প্রথমেই স্বাস্থ্যবিমার বিষয়টি জেনে নেওয়া যাক। অধিকাংশ স্বাস্থ্যবিমা সংস্থা তাদের পলিসিতে পার্সোনাল অ্যাক্সিডেন্ট (Personal Accident) কভারেজ দিয়ে থাকে। এটি রোগের কভারেজের থেকে আলাদা এবং সাধারণত এর ক্ষেত্রে কোনও ওয়েটিং পিরিয়ড থাকে না।
সাপের কামড়ের পর যদি হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়, তাহলে অধিকাংশ স্বাস্থ্যবিমা পলিসির আওতায় হাসপাতালের খরচ, অ্যান্টিভেনম ইনজেকশন, ওষুধের খরচ এবং প্রয়োজন হলে আইসিইউ-তে চিকিৎসার খরচও বিমা সংস্থা বহন করে।
শুধু স্বাস্থ্যবিমা নয়, অনেক জীবনবিমা (Life Insurance) পলিসিতেও পার্সোনাল অ্যাক্সিডেন্ট কভারেজের আওতায় সাপের কামড়ে মৃত্যু হলে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।
জীবনবিমায় অসুস্থতার পাশাপাশি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যুও কভার করা হয়। সাপের কামড়কে সাধারণত দুর্ঘটনা হিসেবে ধরা হয়। ফলে পলিসির শর্ত পূরণ হলে বিমার টাকা দাবি (Claim) করা যায়।
এছাড়া উত্তরপ্রদেশ-সহ দেশের একাধিক রাজ্য সরকারও সাপের কামড়ে মৃত্যুর ক্ষেত্রে আর্থিক সহায়তা দেয়। উদাহরণ হিসেবে, উত্তরপ্রদেশ সরকার সাপের কামড়ে মৃত্যু হলে ৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ দেয়। তবে এর জন্য চিকিৎসকের রিপোর্টের পাশাপাশি এফআইআর-এর কপিও জমা দিতে হয়।
টার্ম ইন্স্যুরেন্সেও সাধারণভাবে সাপের কামড়ে মৃত্যু কভার করা হয়। যদিও টার্ম ইন্স্যুরেন্সে যুদ্ধ, দাঙ্গা ইত্যাদির মতো কিছু পরিস্থিতি কভার করা হয় না এবং কিছু অসুস্থতার ক্ষেত্রে ওয়েটিং পিরিয়ডও থাকতে পারে।
তবে সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে সাধারণত কোনও ওয়েটিং পিরিয়ড থাকে না। দুর্ঘটনা বা জরুরি পরিস্থিতির আওতায় সাপের কামড়ে মৃত্যু হলে টার্ম ইন্স্যুরেন্সে দাবি করা যায়।
তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখতে হবে। অনেক বিমা সংস্থা সাপের কামড়ের স্পষ্ট চিহ্ন না পেলে দাবি খারিজ করতে পারে, এমনকি ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ সাপের কামড় বলে উল্লেখ থাকলেও। তাই দাবি করার সময় চিকিৎসকের রিপোর্ট এবং এফআইআর-এর কপি জমা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।