সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, এই ঘটনা ২০২৪ সালের ১২ জুন থেকে ১৮ জুনের মধ্যে ঘটেছে বলে অভিযোগ। অথচ ঘটনায় পুরো দুই বছর পর, ২০২৬ সালের ২১ জুলাই আজাদনগর থানায় এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে।
৫ জন ব্যাঙ্ক আধিকারিকের বিরুদ্ধে মামলা
ক্যানাড়া ব্যাঙ্কের রিজিওনাল ম্যানেজার মঙ্গেশ রামানাথনের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ব্যাঙ্কের তৎকালীন ও প্রাক্তন কয়েকজন আধিকারিকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন তৎকালীন সিনিয়র ম্যানেজার ও প্রথম লকার ইনচার্জ, গোল্ড লোন অফিসার, দ্বিতীয় চাবির দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক, অফিসার, শাখা প্রধান এছাড়াও দু’জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি। ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে এই আধিকারিকদের কেউই ওই শাখায় কর্মরত নন।
ব্যাঙ্কে নিয়মিত অডিটের সময় নথিপত্রের সঙ্গে ভল্টে রাখা সোনার মিলিয়ে দেখা হলে বেশ কয়েকটি সোনার প্যাকেট নিখোঁজ বলে ধরা পড়ে। এরপর ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। অত্যন্ত সুরক্ষিত বলে বিবেচিত ব্যাঙ্কের ভল্টে প্রবেশের অনুমতি শুধুমাত্র নির্দিষ্ট কয়েকজন আধিকারিকেরই থাকে।
এফআইআর অনুযায়ী, এটি অভ্যন্তরীণ যোগসাজশের ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশ এখন তদন্ত করছে—
কোন চাবি ব্যবহার করে এবং কখন ভল্ট খোলা হয়েছিল?
ভল্টে কোনও প্রযুক্তিগত কারচুপি করা হয়েছিল কি না?
ব্যাঙ্কের সিসিটিভি ফুটেজ, এন্ট্রি রেজিস্টার এবং লকার অ্যাক্সেস সংক্রান্ত নথি বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনাকে ঘিরে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন সামনে এসেছে—
২০২৪ সালের জুন মাসের ঘটনায় এফআইআর করতে দুই বছর সময় লাগল কেন?
নিয়মিত অডিট হওয়া সত্ত্বেও এতদিন বিষয়টি কীভাবে নজরের বাইরে রইল?
এটি কি শুধুই গাফিলতি, নাকি এর পিছনে বড় কোনও পরিকল্পিত চক্র কাজ করেছে?
আজাদনগর এলাকায় ব্যাঙ্কের ভল্ট থেকে সোনা উধাও হওয়ার এটি প্রথম ঘটনা নয়।
এর আগে ব্যাঙ্ক অফ বরোদা-র একটি শাখা থেকে ২৭২ গ্রাম সোনা (মূল্য ৩০ লক্ষ টাকারও বেশি) নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল। সেই ঘটনায় ব্যাঙ্ককর্মী শত্রুঘ্ন কুমার চৌধুরী গ্রেফতার হলেও আজ পর্যন্ত সেই সোনা উদ্ধার করা যায়নি।
পরপর দ্বিতীয়বার বন্ধক রাখা সোনা ব্যাঙ্কের ভল্ট থেকে উধাও হওয়ার ঘটনায় ওই এলাকার ব্যাঙ্কিং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। বর্তমানে গোটা তদন্ত নির্ভর করছে পুলিশের অনুসন্ধান এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের উপর।