ইনকাম ট্যাক্স ইন্ডিয়া বুধবার (২২ জুলাই) এক্স (আগের টুইটার)-এ পোস্ট করে জানিয়েছে,
“AY 2026-27-এর জন্য ইতিমধ্যেই ৩ কোটিরও বেশি ITR জমা পড়েছে। শুধু গতকালই ১৫ লক্ষের বেশি রিটার্ন দাখিল হয়েছে। শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে ৩১ জুলাই, ২০২৬-এর মধ্যে ITR-1 এবং ITR-2 জমা দিন।”
সাধারণভাবে, নতুন কর ব্যবস্থায় (New Tax Regime) বার্ষিক আয় ৪ লক্ষ টাকার বেশি এবং পুরনো কর ব্যবস্থায় (Old Tax Regime) ২.৫ লক্ষ টাকার বেশি হলে ITR জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক।
কম আয় হলেও কখন ITR জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক?
আয়কর আইন, ১৯৬১-এর ধারা ১৩৯(১) অনুযায়ী, মোট আয় করমুক্ত সীমার নিচে হলেও নির্দিষ্ট কয়েকটি শর্ত পূরণ হলে ITR জমা দিতেই হবে।
১) কারেন্ট অ্যাকাউন্টে ১ কোটির বেশি টাকা জমা
একটি বা একাধিক ব্যাঙ্ক বা সমবায় ব্যাঙ্কের কারেন্ট অ্যাকাউন্টে আর্থিক বছরে ১ কোটির বেশি টাকা জমা হলে ITR জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। বড় অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের উপর নজরদারি বাড়াতেই এই নিয়ম।
২) বিদেশ সফরে ২ লক্ষ টাকার বেশি খরচ
কোনও ব্যক্তি যদি নিজের বা অন্য কারও বিদেশ ভ্রমণের জন্য ২ লক্ষ টাকার বেশি খরচ করেন, তবে তাঁকে ITR জমা দিতে হবে। এর মধ্যে ট্যুর প্যাকেজ, বিমান ভাড়া এবং অন্যান্য অনুমোদিত বিদেশ সফরের খরচ অন্তর্ভুক্ত।
৩) বছরে ১ লক্ষ টাকার বেশি বিদ্যুৎ বিল
যদি কোনও ব্যক্তির বার্ষিক বিদ্যুৎ বিল ১ লক্ষ টাকার বেশি হয়, তাহলে তাঁর মোট আয় করযোগ্য সীমার নিচে হলেও ITR জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। বেশি ব্যয়ের হিসেব যাচাই করতেই এই বিধান।
৪) নির্ধারিত সীমার বেশি TDS বা TCS কাটা হলে
আর্থিক বছরে TDS (Tax Deducted at Source) এবং TCS (Tax Collected at Source) মিলিয়ে নির্দিষ্ট সীমার বেশি হলে ITR জমা দিতে হবে।
৬০ বছরের কম বয়সিদের ক্ষেত্রে: মোট TDS/TCS ২৫,০০০ টাকা বা তার বেশি হলে।
৬০ বছর বা তার বেশি বয়সিদের ক্ষেত্রে: মোট TDS/TCS ৫০,০০০ টাকা বা তার বেশি হলে।
৫) সেভিংস অ্যাকাউন্টে ৫০ লক্ষ টাকার বেশি জমা
এক বা একাধিক সেভিংস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আর্থিক বছরে মোট ৫০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি জমা হলে ITR জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক, আয় করযোগ্য হোক বা না হোক।
৬) বিদেশে সম্পত্তি বা আর্থিক স্বার্থ থাকলে
ভারতের বাসিন্দা কোনও ব্যক্তির যদি—
বিদেশে কোনও সম্পত্তি থাকে,
বিদেশি কোনও প্রতিষ্ঠানে আর্থিক স্বার্থ থাকে,
অথবা বিদেশের কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট পরিচালনার অধিকার থাকে,
তাহলেও করযোগ্য আয় না থাকলেও ITR জমা দিতে হবে। এটি ভারতের বিদেশি সম্পদ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের নিয়মের অংশ।
আইন অনুযায়ী বাধ্যতামূলক না হলেও ITR জমা দেওয়ার একাধিক সুবিধা রয়েছে। যেমন—
হোম লোন, পার্সোনাল লোন বা গাড়ির ঋণ নেওয়ার সময় আয়ের প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।
বিদেশে ভিসার আবেদন করতে সুবিধা হয়।
অতিরিক্ত কাটা TDS-এর রিফান্ড দাবি করা যায়।
নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যবসা বা মূলধনী ক্ষতি (Loss) ভবিষ্যৎ বছরের জন্য বহন করা যায়।