Last Updated:
Agnimitra Pal: দুর্নীতিতে জিরো টলারেন্স, ১ সেপ্টেম্বর থেকে থুতু-প্রস্রাবে জরিমানা। একগুচ্ছ ঘোষণা অগ্নিমিত্রা পালের।
কলকাতা: রাজ্যের নগরোন্নয়ন ও পুর পরিষেবা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করলেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। একই সঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেওয়ার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। কোথাও তদন্ত শুরু হয়েছে, কোথাও শীঘ্রই শুরু হবে। তারাতলা ও গার্ডেনরিচের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হতে দেওয়া হবে না।”
বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বিরোধীদেরও একাধিক ইস্যুতে আক্রমণ করেন। জাভেদ খানকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “বিল্ডিং নিয়ে আপনারা উদ্বিগ্ন। আপনাদের সময়ও একাধিক বিল্ডিং প্ল্যান নিয়ে অভিযোগ এসেছে। দুঃখের বিষয়, আপনার এলাকাতেই এই ধরনের সমস্যার সংখ্যা বেশি।”
ফিরহাদ হাকিমকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, জল জমার এলাকা তিনি পরিদর্শন করেছেন। কাজ চললেও এখনও জল জমছে। তাঁর প্রশ্ন, “১৫ বছর সরকারে থেকেও কেন স্থায়ী সমাধান করা গেল না? সেই টাকাগুলো কোথায় গেল?” তিনি আরও অভিযোগ করেন, আগে কলকাতাকে ৫০ শতাংশ তহবিল দেওয়া হলেও উত্তরবঙ্গের একাধিক পুরসভা বঞ্চিত হয়েছে। প্রভাবশালী মন্ত্রীদের কারণেই কলকাতা বেশি সুযোগ পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বড় পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়ে অগ্নিমিত্রা পাল জানান, সরকারের লক্ষ্য প্রতিটি বাড়ি থেকে সরাসরি আবর্জনা সংগ্রহ করা এবং রাস্তায় আবর্জনা ফেলা সম্পূর্ণ বন্ধ করা। যে গাড়িগুলি বর্জ্য সংগ্রহ করবে, সেগুলিতে জিপিএস ব্যবস্থা থাকবে। তিনি জানান, আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ‘স্বচ্ছ’ অ্যাপ গোটা রাজ্যে চালু করা হবে। পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ হিসেবে মন্দির ও বাজারে ব্যবহৃত ফুল থেকে ধূপকাঠি ও আবির তৈরি করা হবে। এতে যেমন বর্জ্য কমবে, তেমনই নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
এছাড়া পুকুর থেকে ৫০ শতাংশ কচুরিপানা তুলে তা হস্তশিল্পে ব্যবহার করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে বোটল ক্রাশার বসানো হবে। সেখানে প্লাস্টিকের বোতল জমা দিলে বিনামূল্যে ব্যাগ দেওয়া হবে। সংগৃহীত প্লাস্টিক রাস্তা নির্মাণ ও পোশাক শিল্পে ব্যবহার করা হবে। ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রকাশ্যে প্রস্রাব করা বা থুতু ফেললে ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হবে বলেও ঘোষণা করেন তিনি।
পাশাপাশি, বসে খাওয়ার ব্যবস্থাও করা হবে। কলেজ স্ট্রিটকে অক্সফোর্ড স্ট্রিটের আদলে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। পার্কিং ফি নিয়ে তিনি বলেন, পার্কিং কর্মীদের হাতে নগদ টাকা না দিয়ে অনলাইনে অর্থপ্রদান করতে হবে। হোটেল ও রেস্তোরাঁয় অব্যবহৃত খাবার সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করা হবে এবং পরের দিন যাঁদের প্রয়োজন, তাঁদের মধ্যে তা বিতরণ করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
আবীর ঘোষাল
Kolkata,West Bengal
