প্রবীণ রাজনীতিবিদের কথায়, “রাজনীতিটা লাইব্রেরি আর মিউজিয়াম হলে অতীত রেখে দেওয়া যেত। আজ তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা কেন্দ্রের শাসক জোটে গেলেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পথ দেখিয়েছেন। অঙ্কে যেমন ক্যালকুলাস, তেমনি রাজনীতিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কখনও জোট করে মন্ত্রী, কখন আবার ছেড়ে দেওয়া। পথ দেখিয়েছেন মমতা।”
এরপরেই নিজস্ব ঢঙে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়ে মদনের মন্তব্য, “রাজনীতি খরস্রোতা নদীর মতো। আজ মোদি তথা এনডিএ-কে আনুষ্ঠানিক ভাবে ধন্যবাদ জানালাম। আজ তো উনি নজির গড়েছেন, শাসক-বিরোধীকে এক সঙ্গে বসিয়ে দিলেন।”
কামারহাটি বিধায়কের কটাক্ষ, “এখন এমন হয়ে গিয়েছিল, “যারে দেখতে নারি তার চলন বাঁকা”। আজ সাংসদরা ভারতবর্ষের ব্যাপ্তিটা বুঝতে পারল। আজ রাজনীতির নয়া পথ খুলে দিলেন নরেন্দ্র মোদি। চাইব শুভেন্দু অধিকারী বিরোধীদের এইভাবে যুক্ত করবেন।”
এরপরেই সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতা সরকারকে তোপ দেগে সদ্য শিবির বদলানো, ইডির ডাক পাওয়া মদন মিত্র বলেন, “গত ১৫ বছরে রাজ্যের সর্বনাশের জন্য আমাদের পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার দায়ী। কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে আজ সামনের সারিতে দেখলাম। শতাব্দী রায়, সায়নী ঘোষকেও দেখলাম। অনেক সাংসদ এলাকায় অবশ্য যেতে পারছেন না। রুলিং পার্টির নাম করে কেউ কেউ বাধা দিচ্ছে। এই আমার এলাকায় কামারহাটিতে যেমন, আমি কাজ করতে চাই। প্রশাসক বসান পুরসভায়।”
শুভেন্দু অধিকারীর কাছেও রাখলেন বড় দাবি, “মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সপ্তাহে একদিন করে বিরোধী দলের বিধায়কদের কথা শুনতে হোক টক টু সিম। আজ সেই অটল বিহারী বাজপেয়ীকে দেখতে চাইছি, যিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কোথায় থাকেন সেটা দেখতে এসেছিলেন।”
তৃণমূল কংগ্রেসের কোন শিবিরের নেতৃত্বে তিনি? মদনের উত্তর, “তৃণমূল কংগ্রেস এখন নানা পন্থী। আমি কোনও পন্থীকে নেতৃত্ব দিই না। খোলা হাওয়ায় নিঃশ্বাস নিতে চাইছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করা যাচ্ছিল না। তাই আমি অন্য পথে।”
“মানুষের উন্নয়নের স্বার্থে যে কাজ করা যাবে সেটাই গণতন্ত্র। বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। আমার ব্যক্তিগত মত মানুষের জন্য কাজ করতে যে পথে এগোনো যায়, তাতে যুক্ত হতে আমার আপত্তি নেই। মানুষ উন্নয়নের জন্য ভোট দিয়েছে। সহযোগী হতে আপত্তি নেই।”
পুর দুর্নীতি মামলায় আগামিকাল ২৯ জুলাই ইডি দফতরে হাজিরা। নিজেই জানালেন, যাবেন। মদন বলেন, “কাল ইডি যাব। পঞ্জি কেসে আমি প্রথম ভিক্টিম ছিলাম। আমার অনেক দিন কেড়ে নিয়েছে। সব ধরণের সাহায্য করব। শিবির বদল করে ভাল চাল বা মন্ত্রীত্ব পেতে আমি আসিনি। আমি অখুশি মানুষের জন্যে কাজ করতে না পারায়।”
এদিন উত্তর কলকাতায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে পোস্টের ঘিরে শোরগোল পরে যায়। সেই পোস্টের বিতর্কেও মুখ খুললেন মদন। তাঁর কটাক্ষ, “পোস্টারের তলায় দুই নাম কুণাল ঘোষ ও তাপস রায়। এয়োদশ শতাব্দীতে যে বই অশ্লীলতার কারণে বাতিল হয়েছে, চতুর্দশ শতাব্দীতে সেই বই শ্রেষ্ঠ হয়েছে। ফলে কে বেইমান সেটা সময় বলবে।” এরপরেই বাংলার মুখ্যমন্ত্রী প্রসঙ্গে আরও একধাপ এগিয়ে মদনের ব্যাখ্যা, “সবথেকে ভাল মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। কারণ পোশাকটা বড্ড সাদা।”