তোর্ষা ভট্টাচার্য, কলকাতা: তাঁকে অভিনেতা হিসেবেই মানুষ চেনেন, ভালবাসেন। ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দা, বিভিন্ন মাধ্যমে বিভিন্ন চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলেন তিনি। কিন্তু যাঁর পরিচিতি অভিনেতা হিসেবে… একটা সময়ে তাঁর অভিনয়ে আসার কোনও পরিকল্পনাই ছিল না! পর্দা নয়, এই নায়ক ভালবাসতেন রং-তুলি। আঁকা শেখাতেন, নিজেকেও উজাড় করে দিতে ভালবাসেন সাদা ক্যানভাসে। তিনি রণজয় বিষ্ণু (Ranojoy Bishnu)। বর্তমানে তিনি ছোটপর্দার ‘প্রতিজ্ঞা’ ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন। পাশাপাশি সামনেই মুক্তি পাচ্ছে, তাঁর নতুন সিনেমা, ‘ঘুণ গাঁও’। এবিপি লাইভ বাংলার (ABP Live Bangla) সঙ্গে সেই সিনেমা নিয়ে কথা বলতে গিয়েই রণজয় বললেন, এমনই অনেক অজানা কথা।
ভালবাসা ছিল রং-তুলি, তাহলে কেন অভিনয়ে রণজয়?
কাজের ব্যস্ততা, শরীরচর্চা তো রয়েছেই… কিছুটা অবসর পেলে, কী করে সময় কাটান রণজয়? অভিনেতা বলছেন, ‘মূলত ৩টে কাজ.. যখন যেটা ইচ্ছা করে। হয় বই পড়ি, নাহলে লেখালেখি করি আর নাহলে.. আঁকি।’ রং তুলি রণজয়ের ভালবাসা, তাহলে কীভাবে অভিনয়ে? রণজয় বলছেন, ‘একটা সময়ে ভেবেছিলাম, আঁকাটাকেই পেশা করব। আঁকা শেখাতাম ও, ভীষণ ভালবাসতাম। এখন নিয়মিত চর্চা করার আর সময় হয় না, তবে সময় পেলেই রং-তুলি নিয়ে বসি। আসলে আমি যে সময়ে ছবি আঁকা নিয়ে মাতামাতি করতাম.. তখন আমার কাছে সেটাকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো আর্থিক সংস্থান ছিল না। তখন এত শিক্ষাকেন্দ্রও ছিল না। মনে হয়েছিল, আঁকাটাকে পেশা করার জন্য যে খরচ হবে, সেটা আমার পক্ষে চালানো সম্ভব নয়। সেই সময়ে প্যাশনের কথা না ভেবে, পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে রোজগার করা, পরিবারকে সাহায্য করাটা আমার কাছে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছিল। বহু বছর ধরেই একটা পরিবারের দায়িত্ব আমার ওপর… আমি বুঝেছিলাম, পেশা হিসেবে আঁকাটা আমি চালিয়ে যেতে পারব না। সম্ভব নয়।’
রণজয় আরও বলেন, ‘আমি কোনোদিন নিয়ম মেনে ছবি আঁকতে বসতে পারি না। আজকে ভাল কিছু আঁকব, এরকমভাবে আঁকতে বসতে পারি না। কখনও মনে হলে, আঁকি। আর হ্যাঁ, যাঁরা ছবি আঁকতে ভালবাসেন, তাঁদের আমি ভালবাসি, শ্রদ্ধা করি। এমনকি মাঝে মাঝে তাঁদের কাছে ছবি এঁকে দেওয়ার দাবিও করি। তবে এটা আমার খুব ব্যক্তিগত বিষয়।’
আরও পড়ুন: Ranojoy Bishnu: নায়ক মানেই সে পারফেক্ট, এই ধারণায় আমি বিশ্বাসী নই! তারও দুর্বলতা থাকে: রণজয় বিষ্ণু