গোটা সপ্তাহ শেষে ‘দাদার দরবারে’ হাজির হতে হয় প্রতিযোগীদের। সঞ্চালক সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রশ্নের সামনে পড়তে হয় তাঁদের। রাজবীর আসার পর থেকেই একের পর এক বিতর্ক তৈরি হয়েছে বিগ বস হাউজে। কখনও টাস্ক, কখনও আবার খাওয়া-দাওয়া, তাঁর সঙ্গে অন্য প্রতিযোগীদের মতপার্থক্য লেগেই রয়েছে।
রাজবীর খুব কম সময়েই অনেকের বিরাগভাজন হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে জিতু কমলের। অনেকেই আন্দাজ করেছিলেন, তিনি হাউসে আসার পরই রাজবীরের সঙ্গে তাঁর সমস্যা হতে পারে। আর বাস্তবেও হল সেটাই। প্রথম দিকে রাজবীরের দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়ান জিতু। তবে সেই বন্ধুত্ব আর টিকল না!
এই মুহূর্তে রাজবীরের সঙ্গে সবচেয়ে ভাল সম্পর্ক নন্দিনী দত্তর। তবে হাউজমেটদের একাংশ এবার রাজবীরকে নিয়ে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ জানালেন, তাও আবার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধেই!
কয়েকদিন আগে তিনি বাংলা ইন্ডাস্ট্রির সকলকে পুকুরের মাছ- কুয়োর ব্যাং বলেছিলেন। সেই প্রসঙ্গ তুলেই রাজবীরকে ঘিরে সৌরভের প্রশ্ন, বাংলার মানুষকে ‘পুকুরের মাছ’ কেন বলেছিলেন! সৌরভ বলেন, বাংলার মানুষকে ‘পুকুরের মাছ’ বলে তিনি নিজে কেন বাংলার এই শোতে অংশ নিতে এসেছেন? শুধু তাই নয়, বাংলায় এসে বাংলার মানুষকে অপমান করার অধিকার তাঁকে কে দিয়েছে, সেই প্রশ্নও ছুড়ে সৌরভ।
রাজবীর এর পর যা বলেন, তাতে সন্তুষ্ট হননি সৌরভ। রাজবীরও বুঝিয়ে দেন, তিনি একেবারেই অনুতপ্ত নন। এর পরই জীতু প্রতিবাদ করেন। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়কে প্রশ্ন করেন, ‘তুমি কি কোনওভাবে এই রুক্ষভাবে খেলার ধরণ, এসে কেড়ে নেওয়া কিছু, বডি গেম.. এগুলোকে সমর্থন করছো? তুমি কি কোনোভাবে এই ভেঙে ফেলব, কেটে ফেলব-টাকে সমর্থন করছো? তাই যদি হয়, আমি কথা দিচ্ছি, আমিই প্রথম হব। সৎ থাকার জন্য আমি আমার বাবা-মাকেও ছেড়ে কথা বলি না।’
এর পরই সৌরভ বলেন, ‘তুমি উত্তেজিত হও না। বসো। আমি একেবারেই এই বিষয়গুলোকে সমর্থন করিনি। তবে আমি ভাবতে পারিনি যে, তুমি এইরকম কথা ভাববে। আমি বাড়িতে একটা স্টেবল চরিত্র চাই, সব মানুষ একরকম হয় না। এর মধ্যেই ভালটাকে বের করে আনতে হবে। কিন্তু তোমার এই মনে করাটা আমায় অবাক করল।’ এরপরে জিতু বলেন, যে খেলার শেষে রাজবীর গলা জোর করে, চেয়ারে চাপড় মেরে বলল, ‘আমি এরকমই থাকব’, আমার মনে হয়েছিল, তোমার তরফ থেকে (সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের) একটা মতামত আসবে।’