Last Updated:
বিচারব্যবস্থাকেও রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পূরণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ করেছেন শেখ হাসিনা৷
গতকাল যুক্তরাজ্যে বসবাসকারী বাংলাদেশীদের দেওয়া এই ভার্চুয়াল ভাষণে এমনই দাবি করেছেন শেখ হাসিনা৷ সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বড় ধরনের সঙ্কটের মধ্যে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন হাসিনা৷ তাঁর অভিযোগ, ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশকে সমৃদ্ধি এবং উন্নতির পথ দেখাতে পারেনি৷
গতকালের ভাষণে বিভিন্ন ইস্যুতে নাম না করেই তারেক রহমান সরকারকে তুলোধনা করেছেন শেখ হাসিনা৷ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিল অবনতি, সংখ্যালঘুদের উপরে আক্রমণ, স্বাস্থ্য ক্ষেত্র ভেঙে পড়া, দৈনন্দিন জীবনযাপনের খরচ বৃদ্ধির মতো বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন শেখ হাসিনা ৷
তাঁর অভিযোগ, কর্মীরা কাজ হারাচ্ছেন, মায়েরা সন্তানদের নিয়ে চিন্তিত, সংখ্যালঘুরা আগের মতো নিজেদের নিরাপদ বোধ করছেনা, রাজনৈতিক কর্মীদের আত্মগোপন করতে হচ্ছে৷ একটা জিনিস স্পষ্ট, বাংলাদেশ প্রশাসন এবং সরকার পরিচালনার দিক দিয়ে গভীর সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে৷
‘২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন বাংলাদেশকে উন্নতির পথ তো দেখাতে পারেইনি বরং দেশের প্রতিষ্ঠানগুলিকে আরও দুর্বল করেছে৷ বাংলাদেশের যে দিশায় এগনোর কথা ছিল, তা থেকে বিচ্যুত হতে হয়েছে৷ আজকে বাংলাদেশে সাধারণ গৃহস্থলী থেকে শুরু করে কারাখানা গ্যাস এবং বিদ্যুতের সমস্যায় জেরবার৷ কারখানাগুলি মুখ থুবড়ে পড়ছে, কৃষকরা সার পাচ্ছেন না৷ কর্মীরা কাজ হারাচ্ছেন৷ বহু পরিবারের ক্ষেত্রেই দৈনন্দিন জীবনের খরচ চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে৷ আইনশৃঙ্খলারও গুরুতর অবনতি হয়েছে৷ নিজের দল আওয়ামি লিগের উপর নিষেধাজ্ঞার কথা মনে করিয়ে দিয়ে হাসিনা অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্র দুর্বল হচ্ছে৷’
হাসিনা বলেন, ‘আওয়ামি লিগের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতেই পারেন, কিন্তু কোটি কোটি মানুষকে জোর করে চুপ করিয়ে রেখে যদি বলা হয় মানুষ আওয়ামি লিগকে প্রত্যাখ্যান করেছে, তা ঠিক নয়৷’
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে হাসিনার আবেদন, ‘বাংলাদেশের সরকার কে চালাবে তা কোনও বাইরের দেশকে ঠিক করে দিতে বলছি না৷ কিন্তু বাংলাদেশেগণতন্ত্র, মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, রাজনৈতিক সমানাধিকার, বিচারব্যস্থার নিরপেক্ষতা, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার দাবিতে আন্তর্জাতিক মহলের সরব হওয়া উচিত৷ আওয়ামি লিগের উপর থেকে যাতে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়, সেই দাবিও তোলা উচিত৷’
