এদিন, নিউজ১৮ বাংলার প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলার সময় অনুব্রত বলেন, ‘‘জেলা সভাপতি ছিলাম। এবার ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক ডেকে ওরা আমাকে জেলা সভাপতি করল। অনেক অনেক ধন্যবাদ। ৩৪ বছরের সিপিএম’কে আমি বীরভূম-বর্ধমান থেকে তাড়িয়েছি। কোনওদিন আমি নিজের জীবনের মায়া করিনি। একটা চোর ডাকাত আইপ্যাক দলটাকে শেষ করে দিয়ে চলে গেল। আর মানুষ চিনতে ভুল করল দিদি। দিদি দল চালাত, দিদিকেই এটা বলব। মানুষ চিনতে ভুল করল। যাকে মন, তাকে টিকিট দিয়ে দিল। এভাবে কি আর দল চলে? দল যাঁরা খেটে তৈরি করল, তাঁদেরকে ভুলে গেল।’’
সময়ে অসময়ে মমতার মুখে বারবার শোনা গিয়েছে তাঁর প্রিয় ‘কেষ্ট’র নাম৷ এমনকি, গরু পাচার কাণ্ডে যখন জেল খাটছেন অনুব্রত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কার্যত তাঁকে ঝেরে ফেলার চেষ্টা করছেন, বলছেন, দোষ করলে আইন ব্যবস্থা নেবে, তখনও কেষ্টর পক্ষেই থাকতে দেখা গিয়েছে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷ সেই মমতার সঙ্গ ত্যাগ করে তিনি যে ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিলেন, সেই কথা জানিয়েছেন ‘দিদি’কে?
অনুব্রত মণ্ডল বলেন, ‘‘দলের সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কে বলব। আবোল তাবোল লোকের নাম নেব না। সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলটা উনি তৈরি করেছিলেন। ওনার বোঝা উচিত ছিল, উনি অভিভাবক, আমি ঠিক না থাকলে আমার বাড়ি, আমার সংসার নষ্ট হবে। বোঝা উচিত ছিল, দলটা শেষ হয়ে যাচ্ছে আস্তে আস্তে। শুভেন্দু ও তো যেত না, ও আইপ্যাকের জন্য গেল।’’
তাহলে এর মধ্যে যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে ফোন করেন, কী বলবেন তিনি? কেষ্টর সাফ কথা, ‘‘দিদি আমাকে ফোন করলে বলব, আমি তৃণমূল করছি। আমাকে ভোটের পরে তিন বার ফোন করেছিল। আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, ‘তুই কি চিন্তা ভাবনা করলি?’ আমি বলেছিলাম আমি কোনও চিন্তা ভাবনা করিনি। আমি এখন দলের কাজ করব।’’
ঋতব্রতদের এদিনের বৈঠকে বীরভূমের রাজ্য সভাপতি হিসাবে অনুব্রতের প্রস্তাবিত নামে সমর্থন জানিয়েছেন কাজল শেখও৷ এদিন তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অনুব্রত বলেন, ‘‘আমি কারও নাম করতে রাজি নই। ওকে আমি (কাজল শেখ) ২০২১ সালে দুটো অঞ্চল দিয়ে রেখেছিলাম। দুটো অঞ্চলের দায়িত্ব দিয়েছিলাম। কে কোন ইন্টারেস্টে ওর নাম নিয়ে কি করে তা আমি জানি না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে বলেছিল, ‘ওকে দুটো অঞ্চলের দায়িত্ব দে।’ যার যা যোগ্যতা তাই দিয়েছিলাম। বিধায়ক হয়ে গেল, ক্ষতিও হল, তার এফেক্টও পড়ল, তিন বিধানসভায়। দুইজনকে একসাথে কাজ করতে হবে তার কোনও মানে নাই। আমি জেলা সভাপতি আমি নিজের মতো কাজ করব। ওর কাছে আমাকে সংগঠন শিখতে হবে নাকি। আমি মানুষকে নিয়ে আমি সংগঠন করি। বীরভূমের মানুষ আমার সাথেই আছে।’’