Last Updated:
অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলায় ১৮ জুনের ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি, তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপের আগে আদালতকে জানিয়ে তবেই ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
কলকাতাঃ প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলা দায়ের হয়েছে আলিপুর থানায়। এই মামলায় অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে হলে আগে আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করে পুলিশকে জানাতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য।
মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য মন্তব্য করেন, “জনসমক্ষে ঘোরানো ও ডিম ছোড়া বন্ধ হওয়া উচিত। অভিযুক্তদের নিয়ে এমন কাজ বন্ধ হওয়া উচিত।” এই মন্তব্য করেন প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের করা মামলার শুনানিতে।
হাইকোর্ট ১৮ জুন আলিপুর আদালত চত্বরের সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণের নির্দেশ দিয়েছে। ওই দিন অরূপ বিশ্বাস আইনজীবীর চেম্বারে ছিলেন। আদালতের নির্দেশে ওই আইনজীবীর চেম্বার-সহ সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজও সংরক্ষণ করতে বলা হয়েছে।
১৮ জুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলিপুর থানায় মামলা দায়ের হয়। অভিযোগ, অরূপ বিশ্বাসের মদতে আইনজীবীদের খুনের চেষ্টা করা হয়। এই ঘটনায় একাধিক ধারায় অরূপ বিশ্বাস ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছে।
ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে অরূপ বিশ্বাস হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন। মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে হলে আগে আদালতকে জানিয়ে তবেই পুলিশ ব্যবস্থা নিতে পারবে।
তিনবার হাজিরা এড়ানোর পর আদালতের নির্দেশে এর আগে দু’বার থানায় উপস্থিত হয়েছিলেন মেসি-কাণ্ডে অভিযুক্ত প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। মঙ্গলবার সকালে পুলিশের তলবের জবাব দিয়ে তিনি ফের বিধাননগর দক্ষিণ থানায় হাজিরা দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী।
অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছেন অনুষ্ঠানের আয়োজক শতদ্রু দত্ত। অভিযোগ, গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তারকা ফুটবলার। শতদ্রুর দাবি, অনুষ্ঠান চলাকালীন অরূপ বিশ্বাস দীর্ঘ সময় ধরে মেসির খুব কাছাকাছি ছিলেন। প্রভাবশালীদের ভিড়ে একসময় মাঠে ধাক্কাধাক্কির পরিস্থিতি তৈরি হয়। অভিযোগ, মেসির সতীর্থ লুইস সুয়ারেজের পেটে কনুইয়ের আঘাত লাগে এবং রদ্রিগো ডি’পলের হাতে নখের আঁচড় লাগে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় মেসির নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে যান।
এরপর গ্যালারিতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে টিকিট কেটেও মেসিকে কাছ থেকে দেখতে না পেরে ক্ষুব্ধ দর্শকদের একাংশ মাঠে নেমে পড়েন। তাতে গোটা অনুষ্ঠান ভণ্ডুল হয়ে যায়। ঘটনার পর বিধাননগর দক্ষিণ থানায় দু’টি পৃথক মামলা দায়ের হয়। প্রথম মামলায় গ্রেফতার হন শতদ্রু দত্ত। দ্বিতীয় মামলায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনার মুখে ক্রীড়ামন্ত্রীর পদ ছাড়েন অরূপ বিশ্বাস। পরে জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর শতদ্রু দত্ত প্রাক্তন মন্ত্রীর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ এনে নতুন করে এফআইআর দায়ের করেন।
Kolkata,West Bengal
