CAG-এর অডিট রিপোর্টে উল্লেখিত আমফান ত্রাণে শুধুমাত্র বাড়ি তৈরীর অনুদানেই ১৩ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির উল্লেখ।
CAG জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির প্রাথমিক সমীক্ষা এবং পরে অনুদান বিতরণের মধ্যে বড় অসঙ্গতি ছিল। অনেক জেলায় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির সংখ্যা দেখিয়ে পরে আংশিক ক্ষতিগ্রস্তদের অনুদান দেওয়া হয়েছে। এমনকি পুরুলিয়ার মতো তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত জেলায় ১০০% বাড়িকেই সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত দেখানো হয়, যা CAG-এর মতে বাস্তবসম্মত নয় এবং সমীক্ষার নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
২১ লক্ষের বেশি উপভোক্তার জন্য ১,৯৪৮.৫১ কোটি বরাদ্দ।
সিএজি রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৮ মে থেকে ২৯ ডিসেম্বর ২০২০-এর মধ্যে আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত ১৬টি জেলার ২১,০৩,৩৮৪ জন উপভোক্তার জন্য ১,৯৪৮.৫১ কোটি হাউস বিল্ডিং (HB) গ্রান্ট বরাদ্দ করে DMCD দফতর।
অডিটে দেখা যায়, ২৮–৩০ মে ২০২০-এর মধ্যে মোট বরাদ্দের ৫১.৩২% অর্থাৎ ১,০০০ কোটি মাত্র ৫ লক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য বরাদ্দ করা হয়। এই পর্যায়ে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি বাড়ির জন্য ২০,০০০ করে অনুদান অনুমোদিত হয়।
পরবর্তীতে ২৫ জুন ২০২০-এর নির্দেশে সরকার অনুদানের হার সংশোধন করে। সেখানে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির জন্য ২০,০০০ এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির জন্য ৫,০০০ নির্ধারণ করা হয়। এরপর ৯০৬.০৭ কোটি বিতরণ করা হয় ১৬ লক্ষেরও বেশি উপভোক্তার মধ্যে। তার মধ্যে ২৫% উপভোক্তা পেলেন অর্ধেকেরও বেশি টাকা, ৭৫% ভাগ করে নিলেন বাকি অর্থ৷
সিএজি-র হিসাব অনুযায়ী, মাত্র ৫ লক্ষ উপভোক্তা (প্রায় ২৫%) পেয়েছেন ১,০০০ কোটি, আর বাকি ১৬.০৩ লক্ষ উপভোক্তা (প্রায় ৭৫%) ভাগ করে নিয়েছেন ৯০৬.০৭ কোটি। অর্থাৎ ২৫% উপভোক্তা মোট অনুদানের ৫০%-এরও বেশি পেয়েছেন, আর ৭৫% উপভোক্তার জন্য ছিল তুলনামূলক কম অর্থ। সিএজি-র অভিযোগ, একই প্রকল্পে একরকম নীতি মানা হয়নি।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, দুই দফায় HB গ্রান্টের হারে কোনও একরূপতা ছিল না। সিএজি-র মতে, এই বৈষম্য সরকারের সিদ্ধান্তহীনতার পরিচয় বহন করে এবং সমতা (equity)-র নীতির পরিপন্থী ‘দ্বৈত মানদণ্ড’ অনুসরণ করা হয়েছে।
আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িও পেয়েছে ২০,০০০ করে অনুদান। অডিটে পশ্চিম মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৩টি ব্লকে সমীক্ষায় দেখা যায়, ৮ জন উপভোক্তা, যাঁদের বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ছিল, তাঁরাও ২০,০০০ করে অনুদান পেয়েছেন। মোট বিতরণ হয়েছে ১.৬০ লক্ষ। কারণ, প্রথম পর্যায়ে আংশিক ক্ষতির জন্য আলাদা অনুদানের হার নির্ধারণই করা হয়নি। এইরকম বৈষম্য কেন তার জন্য জেলা প্রশাসনের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নয় সিএজি।
দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা প্রশাসন জানায়, একটি ক্ষেত্রে টাকা উদ্ধার করা হয়েছে এবং দু’টি ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ক্ষতির সুপারিশ ছিল। কিন্তু যৌথ সমীক্ষায় ওই দুই উপভোক্তাই স্বীকার করেন, তাঁদের বাড়ি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তাই জেলা প্রশাসনের ব্যাখ্যাকে গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেছে সিএজি।
প্রশাসনর পক্ষ থেকে জানা গিয়েছে, দুই দফায় HB Grant দেওয়ার সময় একরকম ক্ষতির জন্য একরকম টাকা দেওয়া হয়নি। CAG-এর নমুনা পরীক্ষায় পশ্চিম মেদিনীপুর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনার ৮ জন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি প্রত্যেকে ২০,০০০ করে পেয়েছেন, যদিও পরে আংশিক ক্ষতির জন্য আলাদা হার নির্ধারণ করা হয়। মোট অতিরিক্ত বিতরণের অঙ্ক ১.৬০ লক্ষ। CAG বলেছে, এতে সমতা ও ন্যায্যতার নীতি লঙ্ঘিত হয়েছে।