কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা: DP থেকে মমতা-অভিষেকের ছবি সরিয়ে এবার ‘বিদ্রোহী’ রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটে ভরাডুবির জন্য অভিষেককেই দায়ী করে তীব্র আক্রমণ রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের। একে একে কাছের মানুষরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়ছেন। ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে এদিন এবিপি আনন্দ-কে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার দিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। বিপর্যয়ের পরেও যার প্রতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আস্থা রেখে,হাওড়া সদরের দায়িত্ব দিয়েছেন, সেনাপতি পদে। এবং পাশাপাশি রাজ্যের সাধারণ সম্পাদক তৃণমূলের।
এবিপি আনন্দ: আজকে আপনার সঙ্গে কথা বলার একমাত্র কারণই, হঠাৎ করে দেখা যাচ্ছে, সমাজ মাধ্যমে আপনার, যে কভার ফটো সেটা চেঞ্জ হয়ে গিয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জায়গায় নিজের ছবি দিয়েছেন, মানুষের ছবি দিয়েছেন। এটার কারণ কী ?
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়: আমার মনে হয়েছে, সাধারণ মানুষের পাশে থাকবার জন্যই রাজনীতি করা। এবং যে কভার ফটো ছিল, সেটা নির্বাচনের কভার ফটো। আবার জিতবে বাংলা। ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেখানে কোনও স্থান আছে বলে মনে করি না। দিদির এই সময় যারা সত্যিকারে দিদিকে ভালবাসে, তাঁদেরও মনের কথা হচ্ছে, তাঁরা কেউ চাইছে না অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ..মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় করে যাচ্ছেন। আমি দিদিকে হাতজোড় করছি যে, আর অভিষেক , অভিষেক করবেন না। আর অভিষেককে বাঘের বাচ্চা বানাবেন না। আর অভিষেককে ডিফেন্ড করার চেষ্টা করবেন না। কারণ অভিষেকের জন্য, আজকে দলটার এই অবস্থা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেমন তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছেন, তার যেমন সমস্ত অবদান, আর দলটা, শেষ করার জন্য যদি কাউকে দায়ী করতে হয়, তার একমাত্র দাবি হচ্ছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। …শুভেন্দু অধিকারী কেন দল ছেড়েছেন, শুধুমাত্র অভিষেককে নেতা বানাতে গিয়ে, মান্যতা দিতে গিয়ে। আজকে শুভেন্দু অধিকারীর মতো এইরকম একটা বলিষ্ঠ নেতৃত্বকে , আজকে দল ছাড়তে, আমরা বাধ্য করেছি। শুধু তাই নয়, একে একে , প্রত্যেকে অভিযোগ জানাচ্ছে অভিষেকের বিরুদ্ধে ..। এবং মনের জ্বালা তো বটেই, আজকে আমাকে কীভাবে..আমার রাজনৈতিক জীবন বলুন, পরিবার বলুন, সব কিছুকে নষ্ট করেছে এই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আমাকে জয়েন করানো হল, বলা হল এরকম, দলের জন্য কিছুদিন কাজ করো, তারপর নিশ্চিতভাবে আমরা দেখবো। কী না করিনি আমি বলুন তো। এই বিগত একুশ থেকে ২৬ সাল পর্যন্ত দেখেন, যদি সবথেকে বেশি পরিশ্রম করে থাকে, সবথেকে কঠিন দায়িত্ব সামলে থাকেন, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। যে জোর করে ত্রিপুরা আমায় পাঠানো হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাকে নিজে ফোন করেছেন। করে বলছেন তুই ত্রিপুরা থেকে কী করবি ? তোর মতো একটা অ্যাক্টিভ ছেলেকে তো আমার বাংলায় কাজে লাগানো বেশি দরকার। তোকে তো বাংলা আমি চাই, তাতে আমার দলটা আরও বেশি সমৃদ্ধ হবে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বললাম..।আসতে দিল না। এই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় , যত পচা লোকগুলিকে প্রতিটা জেলায়,…যাদের চোখ দিয়ে দলটা দেখত, ..করে আজকে দলটা শেষ করে দিয়েছে।