Last Updated:
Government loan Scheme: পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির লক্ষ্যে ময়নায় বিরাট পদক্ষেপ নিল জেলা প্রশাসন। মহিলা সমৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ঋণ ও শিক্ষা ঋণের মতো ৫টি ধামাকা প্রকল্পে স্বল্প সুদে এবং সরকারি অনুদানে ভরপুর সহায়তার পথ খুলে গেল ইজমালিচকে।
তমলুক, সৈকত শী: তফশিলি জাতি ও উপজাতির পিছিয়ে পড়া সম্প্রদায়ের মানুষদের বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার প্রদান করা এবং তাঁদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে আরও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসন উদ্যোগ গ্রহণ করল। তাদের স্বপ্নের ক্ষেত্রে আর বাধা হবে না অর্থনৈতিক সমস্যা। পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ময়না ইজমালিচক এলাকায় তপশিলি জাতি ও উপজাতি এবং অনগ্রসর সম্প্রদায়ের মানুষের বাস। এই এলাকায় ঐসব সম্প্রদায়ের মানুষদের সমাজের মূল স্রোতে নিয়ে আসার জন্য উদ্যোগ নিল জেলা প্রশাসন। তপসিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে বিশেষ সচেতনতামূলক শিবিরের আয়োজন করল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন।
শিবিরে উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, ময়নার বিডিও জগন্নাথ বিশ্বাস-সহ প্রশাসনের আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা। অর্থের অভাবে যাতে তপসিলি সম্প্রদায়ের কোনও পরিবার শিক্ষা বা জীবিকার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ। তপসিলি জাতি ও উপজাতির মানুষের জন্য বর্তমানে পাঁচটি বিশেষ ঋণ প্রকল্প চালু রয়েছে। এগুলি হল— মহিলা সমৃদ্ধি যোজনা, মেয়াদি ঋণ, ক্ষুদ্র ঋণ (মাইক্রো ক্রেডিট), লঘু ব্যবসায়ী যোজনা এবং শিক্ষা ঋণ। প্রকল্পভেদে মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ মিলবে। পাশাপাশি সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত সরকারি অনুদানেরও ব্যবস্থা রয়েছে।
জেলা শাসক জানান, “মহিলা সমৃদ্ধি যোজনায় ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা সর্বাধিক ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন। শর্ত অনুযায়ী, গোষ্ঠীর অন্তত ৬০ শতাংশ সদস্যকে এসসি বা এসটি সম্প্রদায়ের হতে হবে এবং বার্ষিক পারিবারিক আয় ৩ লক্ষ টাকার নিচে থাকতে হবে। এই প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ অনুদান এবং ৫ শতাংশ হারে সুদের সুবিধা রয়েছে। এ ছাড়াও মেয়াদি ঋণে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত, লঘু ব্যবসায়ী যোজনায় ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এবং ক্ষুদ্র ঋণ প্রকল্পে স্বল্প আয়ের পরিবারগুলির জন্য সহজ শর্তে ঋণের সুযোগ রয়েছে। শিক্ষা ঋণের ক্ষেত্রে দেশে উচ্চশিক্ষার জন্য সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ এবং বিদেশে পড়াশোনার জন্য ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ঋণ মিলতে পারে, সুদের হার মাত্র ৫ শতাংশ।”
শিবিরে জেলাশাসক স্থানীয় যুবক-যুবতী এবং মহিলাদের পশুপালন, মৎস্যচাষ, ছাগল পালন, কুটির শিল্প-সহ বিভিন্ন স্বনিযুক্তিমূলক কাজে এই ঋণ ব্যবহারের আহ্বান জানান। তাঁর কথায়, বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কের তুলনায় এই প্রকল্পগুলিতে সুদের হার কম, পাশাপাশি সরকারি অনুদানের সুবিধাও রয়েছে। তাই সরকারি প্রকল্পের সুযোগ কাজে লাগিয়ে পরিবারকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার আহ্বান জানান তিনি। প্রশাসনের এই সময়োপযোগী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন ইজমালিচকের বাসিন্দারা। তাঁদের আশা, এই সচেতনতা প্রচারের ফলে বহু পিছিয়ে পড়া পরিবার সরকারি সহায়তায় স্বনির্ভরতার দিশা পাবে।
Purba Medinipur,West Bengal