Last Updated:
Inspirational Story: শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাঁর স্বপ্নের গতি থামাতে পারেনি। বীরভূমের সিউড়ির জগন্নাথ মাহারা দুই হাত হারিয়েও হার মানেননি জীবনের কাছে। পায়ে লিখে নিজের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আজ তিনি একশো দুস্থ শিশুর আলোর দিশারী। ইচ্ছাশক্তি আর জেদ থাকলে যে কোনও প্রতিকূলতা জয় করা যায়, তারই জলজ্যান্ত প্রমাণ এই যুবক।
সিউড়ি, বীরভূম: দুই হাত নেই, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা ১০০ শতাংশ। কিন্তু তা বলে কি স্বপ্ন দেখা আটকে থাকে? কিংবা থেমে যায় জীবনের গতি? সমাজের আর পাঁচটা মানুষের ভাবনাকে ভুল প্রমাণ করে অনন্য নজির গড়েছেন বীরভূমের সিউড়ির হাটজান বাজার এলাকার জগন্নাথ মাহারা। হাত না থাকলেও পায়ের উপর ভর করেই জীবনের সমস্ত কঠিন লড়াই সামলে নিচ্ছেন তিনি।
শিক্ষিত যুবক হওয়া সত্ত্বেও কপালে জোটে নি কোনও সরকারি চাকরি। অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে একাধিকবার একাধিক দুয়ারে ঘুরে মিলেছে শুধুই ফাঁকা আশ্বাস, কাজের কাজ কিছুই হয়নি। কিন্তু সেই হতাশা তাকে থামিয়ে দিতে পারেনি। নিজের অদম্য জেদকে সম্বল করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জগন্নাথ গড়ে তুলেছেন একটি অবৈতনিক বিদ্যালয়। যেখানে এলাকার বহু দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবারের ছেলেমেয়েরা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পড়াশোনা করার সুযোগ পাচ্ছে।
নিজের সংসার চালানো আর স্কুলের খুদে পড়ুয়াদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে জগন্নাথ বাস ও ট্রেনে সাধারণ মানুষের কাছে হাত পাতেন। ভিক্ষা করে যা পান, তা দিয়েই চলে এই শিক্ষাযজ্ঞ। তবুও জীবনের এই অসম লড়াইয়ে হার মানতে নারাজ জগন্নাথ। রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর তার চোখে এখন নতুন আশা। নিজের ও তার অবৈতনিক স্কুলের শতাধিক ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যতের কথা ভেবে এবার তিনি দ্বারস্থ হয়েছেন রাজ্যের মন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়ের কাছে। একটি স্থায়ী কাজের আবেদন জানিয়েছেন তিনি, যাতে সম্মানজনকভাবে নিজের জীবনযাপন করার পাশাপাশি নিজের স্বপ্নের স্কুলটিকেও তিনি আরও ভালোভাবে চালিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।
Birbhum,West Bengal
Jul 23, 2026 12:49 PM IST
Inspirational Story: দুই হাত নেই, তবুও জীবনযুদ্ধে তিনি ‘জগন্নাথ’! পায়ে কলম নিয়ে ভিক্ষে করে খুদেদের ভবিষ্যৎ গড়ছেন সিউড়ির যুবক, জানলে অনুপ্রাণিত হবেন
