তবে শুধু নিজের মা নয়, কয়েকবছর আগে নিজের বাবাকেও আয়ুষীই খুন করেছিল বলে অভিযোগ তুললেন ওই তরুণীর মামা৷ নিজের ভগ্নীপতির মৃত্যুর তদন্ত চেয়ে এবার পুলিশ এবং আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন আয়ুষীর মামা রাকেশ শর্মা৷
আয়ুষীর মা নীরজ শর্মা সরকারি চাকরি করতেন৷ নিজের মাকে সরিয়ে দিতে পারলে সেই চাকরি পাওয়া যাবে, এ কথা ভেবেই নিজের খুড়তুতো ভাই বলরাম এবং অন্য কয়েকজনের সঙ্গে মিলে নিজের মাকে খুন করার অভিযোগ উঠেছে আয়ুষীর বিরুদ্ধে৷ আয়ুষী গ্রেফতার হলেও তাঁর খুড়তুতো ভাই বলরাম পলাতক৷
আয়ুষীর মামা রাকেশ শর্মার অভিযোগ, ২০২৫ সালে আয়ুষীর বাবা বিজয় শর্মার মৃত্যু হয়৷ বিজয় শর্মা রাজস্থান হাইকোর্টের কর্মী ছিলেন৷
গত ৩ জুলাই গাড়ির ধাক্কায় মৃত্যু হয় আয়ুষীর মা নীরজ শর্মার৷ প্রথমে বিষয়টি পথ দুর্ঘটনা বলে মনে হলেও নিজের ভাগ্নীর নামেই তাঁর বোনকে খুন করার অভিযোগ তুলে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন আয়ুষীর মামা রাকেশ শর্মা৷ পরে তদন্তে নেমে আয়ুষী, তাঁর কাকা সহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ৷ জানা যায়, সরকারি চাকরি এবংজমি হাতাতেই নিজের মা নীরজ শর্মাকে হত্যার ছক কষে আয়ুষী৷
প্রসঙ্গত, আয়ুষীর বাবার মৃত্যুর পর সেই চাকরি পেয়েছিলেন আয়ুষীর মা৷ পুলিশ দাবি করেছে, জেরায় আয়ুষী স্বীকার করেছে যে বাবার মৃত্যুর পর তাঁর চাকরি সে নিজেই করতে চেয়েছিল৷ কিন্তু চাকরিতে যোগ দেন আয়ুষীর মা৷ এর থেকেই মায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ বাড়ে আয়ুষীর মনে৷
আয়ুষীর মামা অভিযোগ করেছেন, তাঁর ভগ্নীপতি বিজয় শর্মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন৷ কিন্তু চিকিৎসায় অনেকটাই সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন তিনি৷ সেই সময় আয়ুষী বাবার চিকিৎসা বন্ধ করে দেট৷ এর পর নিজের খুড়তুতো ভাই বলরামের সঙ্গে মিলে বাবাকে নিয়ে কোনও এক অজ্ঞাতপরিচয় জায়গায় চলে যায় আয়ুষী৷ উন্নত চিকিৎসার জন্যই সে বাবাকে নিয়ে যাচ্ছে বলে পরিবারের সদস্যদের জানায় ওই তরুণী৷ প্রায় তিন মাস আয়ুষীর বাবা বিজয়ের কোনও খোঁজ ছিল না পরিবারের কাছে৷
এর পর হঠাৎই একদিন আয়ুষী জানায়, বিজয় জয়পুরের একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন৷ পরিবারের সদস্যরা সেখানে গেলে চিকিৎসক জানিয়ে দেন, বিজয়ের শরীরের ৯০ শতাংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে তাঁকে বাঁচানো খুবই কঠিন৷ এ কথা শোনার পর আয়ুষী বাবাকে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নিয়ে চলে আসে৷ সেখানেই মৃত্যু হয় বিজয়ের৷
রাকেশের অভিযোগ, বিজয়ের মৃত্যুর পর তাঁর দেহ নিয়ে গ্রামের বাড়িতে গিয়ে সৎকার করে আসে আয়ুষী এবং তাঁর খুড়তুততো ভাই বলরাম৷ এমন কি, বাবার মৃত্যুর কয়েকদিনের মধ্যে আয়ুষী দাবি করে, তিনিই বাবার সরকারি চাকরি করবেন৷ বাবার সম্পত্তিও নিজের নামে করে দেওয়ার জন্য চাপ দেয় আয়ুষী৷ যদিও তাঁর মা নীরজ মেয়ের এই দাবি মানেননি৷ তিনিই নিজেই স্বামীর চাকরিতে যোগ দেন৷
পুলিশ দাবি করেছে, আয়ুষী জেরায় জানিয়েছে মায়ের প্রতি বরাবরই মনে ক্ষোভ ছিল তার৷ কারণ নীরজ নাকি আয়ুষীর তুলনায় তার বিশেষ ভাবে সক্ষম ভাইয়ের প্রতি বেশি দুর্বল ছিলেন৷ স্বামীর চাকরিও তিনি করতে শুরু করায় মায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ চরমে পৌঁছয় আয়ুষীর৷