Last Updated:
Lakshadweep Seaplane:সিএনএন-নিউজ18-এর হাতে আসা সরকারি নথি অনুযায়ী, সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞ প্যানেল ছয়টি দ্বীপে ‘ওয়াটার এয়ারোড্রোম’ প্রকল্পের জন্য পরিবেশগত ছাড়পত্রের সুপারিশ করেছে।
নয়াদিল্লি, আমন শর্মা : সি-প্লেনে ফিরোজা রঙের লাক্ষাদ্বীপে ঘুরে বেড়ানোর স্বপ্ন শীঘ্রই সত্যি হতে চলেছে। পর্যটন ও যোগাযোগ ব্যবস্থাকে উৎসাহ দিতে কেন্দ্রীয় সরকার লাক্ষাদ্বীপ দ্বীপপুঞ্জে সি-প্লেন পরিষেবা চালুর আরও এক ধাপ কাছাকাছি পৌঁছেছে । সিএনএন-নিউজ 18-এর হাতে আসা সরকারি নথি অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় পরিবেশ মন্ত্রকের অধীনস্থ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিশেষজ্ঞ প্যানেল ২০ মার্চ ৬ দ্বীপে “ওয়াটার অ্যারোড্রোম” প্রকল্পের জন্য পরিবেশগত ছাড়পত্রের সুপারিশ করেছে।
প্রস্তাবিত নেটওয়ার্কটি কোচিকে ৬ টি দ্বীপের সঙ্গে সংযুক্ত করবে—কাভারাত্তি, কালপেনি, কিলতান, কাদমাত, মিনিকয় এবং আগাত্তি—যা ভারতের অন্যতম প্রত্যন্ত ও মনোরম এই গন্তব্যে পর্যটকদের ভ্রমণের পদ্ধতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে পারে। বহু বছর ধরে লাক্ষাদ্বীপের মনোমুগ্ধকর উপহ্রদ ও প্রবাল দ্বীপগুলিতে পৌঁছানো কঠিন ছিল, এবং পর্যটকরা মূলত আগাত্তিগামী সীমিত ফ্লাইট এবং কোচি থেকে দীর্ঘ জাহাজযাত্রার উপর নির্ভরশীল ছিলেন। কর্মকর্তারা এখন মনে করছেন যে সি-প্লেন এই পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে দিতে পারে।
এই প্রকল্পটির তুলনা ইতিমধ্যেই মালদ্বীপের সঙ্গে করা হচ্ছে, যেখানে সি-প্লেন বিলাসবহুল দ্বীপ পর্যটনের সমার্থক হয়ে উঠেছে। সমস্ত অনুমোদন পাওয়া গেলে, লাক্ষাদ্বীপের দর্শনার্থীরা শীঘ্রই শুধুমাত্র প্রচলিত বিমানবন্দর এবং ফেরির উপর নির্ভর না করে, স্ফটিক-স্বচ্ছ জলে ঘেরা লেগুনগুলিতে সরাসরি অবতরণ করতে পারবেন।
২০২৪ সালের জানুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বহুল প্রচারিত লাক্ষাদ্বীপ সফরের পর এই দ্বীপপুঞ্জের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্মল সৈকত এবং নীল উপহ্রদের ছবি অনলাইনে পর্যটন জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। লাক্ষাদ্বীপকে একটি বিশ্বব্যাপী দ্বীপ গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ হিসেবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এর প্রাথমিক কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। চলতি বছরের ১৩ মে, একটি DHC6-400 টুইন অটার বিমান ব্যবহার করে কোচি ও লাক্ষাদ্বীপের মধ্যে সর্বপ্রথম সি-প্লেনের পরীক্ষামূলক উড়ান সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়। বিমানটি প্রথমে আগাত্তিতে এবং পরে কাভারাত্তির নিকটবর্তী উপহ্রদে মসৃণভাবে অবতরণ করে—যা লাক্ষাদ্বীপের জলরাশিতে প্রথম সি-প্লেন অবতরণ হিসেবে চিহ্নিত হয়।
কর্মকর্তারা এই পরীক্ষাটিকে দ্বীপপুঞ্জের পরিবহণ ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। প্রসঙ্গত প্রস্তাবিত “জল বিমানবন্দরগুলো” পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দরের মতো হবে না। এর পরিবর্তে, এগুলোতে থাকবে ছোট আকারের যাত্রী টার্মিনাল, ভাসমান হাঁটার পথ এবং সি-প্লেন পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে নকশা করা ডকিং সুবিধা।
৬ দ্বীপের মধ্যে কাভারাত্তিতে যাত্রীর আনাগোনা সবচেয়ে বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে বার্ষিক ১৬,০০০-এরও বেশি পর্যটকের আগমন ঘটবে বলে পূর্বাভাসে অনুমান করা হয়েছে। কার্যক্রম শুরু হলে আগাত্তি, কালপেনি এবং কিলতানেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটবে বলে আশা করা হচ্ছে, যেখানে প্রতিটিতে বছরে প্রায় ৮,০০০ যাত্রী আসবে। এই পরিষেবাটি দ্বীপগুলোর মধ্যে যাতায়াতের সময় ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনতে পারে এবং বর্তমানে দুর্গম থাকা স্থানগুলোতেও যাতায়াতের সুযোগ উন্মুক্ত করে দিতে পারে। প্রকল্পটি পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হলে, লাক্ষাদ্বীপ অবশেষে তার পর্যটন খাতের এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় রূপান্তরের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
Kolkata [Calcutta],Kolkata,West Bengal
May 28, 2026 11:00 AM IST
