এই পরিস্থিতিতে রবিবার প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’-কে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমাদের কর্তব্যকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি সংকল্প নিতে হবে। বড় একটি সংকল্প হওয়া উচিত পেট্রোল ও ডিজেলের ব্যবহার যতটা সম্ভব কমানো।”
জ্বালানি সাশ্রয়ের জাতীয় উদ্যোগ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী অনলাইন কনফারেন্স, ভার্চুয়াল মিটিং এবং ওয়ার্ক ফ্রম হোমকে আবারও অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর এই আহ্বানের পর কর্পোরেট মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে—কোভিড সময়ের মতো আবার কি ভারত ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ ব্যবস্থায় ফিরতে প্রস্তুত?
প্রধানমন্ত্রীর এই আবেদন বাস্তবায়নের দাবিও উঠতে শুরু করেছে। আইটি কর্মীদের সংগঠন NITES কেন্দ্র সরকারকে চিঠি দিয়ে আইটি ও আইটিইএস সংস্থাগুলির জন্য বাধ্যতামূলক ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ নির্দেশিকা জারি করার দাবি জানিয়েছে। তাদের মতে, এতে জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং শহুরে পরিকাঠামোর উপর চাপও কমবে।
প্রধানমন্ত্রীর বার্তা স্পষ্ট—অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত কমান, জ্বালানির ব্যবহার কম করুন এবং যতটা সম্ভব ভার্চুয়াল মিটিংয়ের দিকে ফিরুন। তবে বড় প্রশ্ন হল, ভারতীয় সংস্থাগুলি কি আবার কোভিড-পর্বের মতো কাজের ধরনে ফিরে যেতে প্রস্তুত?
আইটি সেক্টরের মতে, এই পরিবর্তনের জন্য তাদের কাছে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ও সক্ষমতা দুটোই রয়েছে। NITES-এর সভাপতি হরপ্রীত সিং সালুজা বলেন, “কোভিড-১৯ মহামারির সময় ভারতীয় আইটি সেক্টর ইতিমধ্যেই বড় পরিসরে সফলভাবে ওয়ার্ক ফ্রম হোম ব্যবস্থা চালু করেছিল। তাতেও উৎপাদনশীলতা বা ব্যবসার ধারাবাহিকতায় কোনও বড় সমস্যা তৈরি হয়নি। আইটি ও আইটিইএস ক্ষেত্রের কাছে এখনও সেই রিমোট ওয়ার্কিং পরিকাঠামো ও সক্ষমতা রয়েছে, যার মাধ্যমে আবারও জাতীয় অগ্রাধিকারের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব।”
কোভিড সময়ে বহু সংস্থা রিমোট ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ক্লাউড অপারেশন এবং ডিজিটাল সহযোগিতা ব্যবস্থায় বড় বিনিয়োগ করেছিল। এখন কর্মীদের কাছেও বিষয়টি শুধু সুবিধার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।
মুম্বইয়ের কমিউনিকেশনস পেশাদার শ্রুতি পালের মতে, প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর বক্তব্য, যদি সংস্থাগুলি ব্যবসায়িক চাহিদা ও কর্মীদের প্রয়োজনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে পারে, তাহলে হাইব্রিড ও রিমোট ওয়ার্ক দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর হতে পারে।
অন্যদিকে, গুরুগ্রামের একটি টেলিকম সংস্থায় কর্মরত অভিষেক মনে করেন, এই সময়টি একেবারে উপযুক্ত। তাঁর মতে, রিমোট ও হাইব্রিড ওয়ার্ক এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য। তিনি বলেন, তাঁদের অফিসও এই পরিবর্তনের জন্য অনেকটাই প্রস্তুত এবং বাড়ি থেকে কাজ করেও উৎপাদনশীলতা বজায় রাখা সম্ভব।
কিছু সংস্থা এখন আর ওয়ার্ক ফ্রম হোমকে সাময়িক ব্যবস্থা হিসেবে দেখছে না। Mentoria এবং BOTS.AI-এর সিইও নিখর অরোরা জোর দিয়ে বলেছেন, কাজকে ডেস্কে কাটানো সময় দিয়ে নয়, বরং ফলাফলের ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত।
প্রযুক্তি সংস্থাগুলি দ্রুত বদলের জন্য প্রস্তুত থাকলেও সব সেক্টরের ক্ষেত্রে বিষয়টি এত সহজ নয়। InCruiter-এর প্রতিষ্ঠাতা অনিল আগরওয়াল সতর্ক করে বলেছেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রস্তুতির স্তর আলাদা। তাঁর মতে, রিমোট ওয়ার্কের জন্য বিশ্বাস, প্রযুক্তি ও প্রক্রিয়াগত শৃঙ্খলা দরকার, যা এখনও বহু সংস্থার নেই।