কী বললেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়?
বিধায়ক আবাসনে এদিনের বৈঠক তথা ‘আড্ডা’য় যে তৃণমূল বিধায়কেরা উপস্থিত ছিলেন, তা একপ্রকার স্বীকার করে নিয়ে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘কয়েকজন মিলে ঘরে আড্ডা দিলাম মুড়ি খেলাম। আমি ফিস ফ্রাই খেলাম৷ মঙ্গলবার বলে সন্দীপন ফিসফ্রাই খায়নি। বেশ কয়েকজন ছিলাম সংখ্যা বলতে পারব না৷ তবে কারা ছিলাম সেটা বলব না।’’ অন্যদিকে, আরেক বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা বলেন, ‘‘আর আলোচনার কোন জায়গা নেই। দল যা মন্তব্য করার করে দিয়েছে।’’
কারা ছিলেন ঋতব্রদের বৈঠকে?
এদিন ঋতব্রতদের ‘আড্ডা’র শেষে সুতির তৃণমূল বিধায়ক ইমানি বিশ্বাস এবং গোলাম রব্বানি-সহ দুই বিধায়ককে গাড়িতে উঠে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়৷ যদিও সুতির বিধায়ক জানান, ‘‘আমি আমার ঘরে ছিলাম বৈঠক তো কিছু হয়নি৷’’
কোন দিকে এগোচ্ছে তৃণমূল?
সোমবার ঋতব্রত এবং সন্দীপনকে বহিষ্কারের পরেই জল্পনা শুরু হয়েছিল। এর আগে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে বিধায়কদের অনুপস্থিত থাকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল৷ সোমবার সন্ধেবেলা এমএলএ হস্টেলে ঋতব্রতদের ‘আড্ডা’য় শিউলি সাহা, জাভেদ খানদের যোগ দেওয়ার পরেই তৃণমূলে ভাঙনের সম্ভাবনা আরও জোরাল হয়।
এরপরেই রব ওঠে, মঙ্গলবারই বিধানসভায় চিঠি দেবেন ঋতব্রত-সন্দীপন৷ দিন গড়াতে যদিও শোনা যায়, আজ নয়, বুধবার স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের৷ তার আগে মঙ্গলবার দিনভর তৃণমূলেক বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের একত্রিত করার চেষ্টায় দেখা যায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে৷
জানা গিয়েছে, ঋতব্রত-সন্দীপনের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বহু তৃণমূল বিধায়ক। দলত্যাগ বিরোধী আইন এড়াতে প্রয়োজন ৫২ বিধায়ক। দুই বিধায়ক ঋতব্রত ও সন্দীপনকে বহিষ্কার করায় তৃণমূলের বিধায়ক সংখ্যা ৮০ থেকে কমে ৭৮ হয়েছে। ৭৮ বিধায়কের দুই তৃতীয়াংশ ৫২ বিধায়ক, ঋতব্রত সন্দীপনদের দরকার আর ৫০ বিধায়কের সমর্থন।
বিধানসভায় কী জানিয়েছেন ঋতব্রত?
এদিন বিধানসভা ভবন চত্বরে ঋতব্রত সাংবাদিকদের জানান, ‘‘তৃণমূল হাইজ্যাক হয়ে গেছে। মমতা বন্দোপাধ্যায় অনেক বড় মাপের নেত্রী। অফিসের মাধ্যম হয়ে গিয়েছিল গোদরেজ ওয়াটার সাইড। পলিটিকাল কালচার দলে ছিল না।’’ তিনি বলেন, ‘‘আজকে আমি আমার ও সন্দীপনের দায়িত্ব নিয়েছি। গতকাল জাভেদ খান শুধু নয় অনেক বিধায়কের সাথে দেখা করেছি। অন্য কোথাও যেতে হয়নি। বিধায়ক আবাসেই দেখা করেছি। রথীন ঘোষের বাড়ি গিয়েছিলাম। দেখা করে এলাম।’’
ঋতব্রত জানান, আগামিকাল হাওড়া, কলকাতার বিধায়কদের নিয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করবেন শুভেন্দু অধিকারী৷ সেখানে হাওড়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়ক উপস্থিত থাকবেন বলে তিনি জানান৷ জানান, ‘‘আগামিকাল হাওড়ার বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর বৈঠকে আমরা সহ অনেকেই যাব।’’
এরপরেই তাঁর বিস্ফোরক মন্তব্য, ‘‘আমার সাথে, সন্দীপনের সাথে কুণাল ঘোষের অনেক কথা হয়েছে। সময় মতো প্রকাশ করব। আমাদের সাথে যোগাযোগে ছিলেন উনি। চোর চোর আওয়াজ বা প্রিজন ভ্যানের আওয়াজ আমাকে শুনতে হয় না।’’