Last Updated:
South 24 Parganas News: সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালীনই নিয়ম ভাঙার অভিযোগে নামখানায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। স্থানীয় মৎস্যজীবীদের তৎপরতায় একটি ট্রলারে বিপুল পরিমাণ সামুদ্রিক মাছ উদ্ধার হয় এবং সেটিকে আটক করা হয়। ঘটনাটি সামনে আসতেই ব্যান পিরিয়ডে বেআইনি মাছ ধরার অভিযোগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
নামখানা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নবাব মল্লিক: নিষেধাজ্ঞা ওঠার আগেই সমুদ্রে থেকে মাছ আনার অভিযোগ উঠল নামখানায়। প্রায় ১১৫০ কেজি মাছ সময়ের আগে আনার অভিযোগে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। এই ঘটনায় ট্রলারটিকে আটক করা হয়। সরকারি নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এবং সাধারণ মৎস্যজীবীদের চোখে ধুলো দিয়ে ব্যান পিরিয়ডের মধ্যেই এই কাজ করেছে অসাধু ব্যবসায়ীরা। জানা গিয়েছে সামুদ্রিক মাছ বোঝাই ট্রলারটিকে প্রথমে হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা।
মাছেদের প্রজননের জন্য গত দু’মাস ধরে সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর কড়া সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী বাড়তি মুনাফার লোভে গোপনে সমুদ্রে ট্রলার নামাচ্ছিল বলে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ উঠছিল। এরপর নামখানার হরিপুর ঘাটের কাছে কাকদ্বীপ এলাকার ‘এফবি পারমিতা’ নামের একটি ট্রলারকে সন্দেহজনকভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। ট্রলারে থাকা কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করতেই তাঁদের কথায় অসঙ্গতি মেলে। এরপরই গ্রামবাসীরা ট্রলারের কোল্ড স্টোরেজে তল্লাশি চালাতেই চোখ কপালে ওঠে সবার।
দেখা যায়, ভেতরে থরে থরে সাজানো রয়েছে সদ্য ধরে আনা বিভিন্ন প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ। এরপর খবর দেওয়া হয় নামখানা থানা এবং মৎস্য দফতরে। খবর পেয়েই দ্রুত হরিপুর ঘাটে পৌঁছায় নামখানা থানার পুলিশ ও মেরিন অফিসাররা। সরকারি নিয়ম ভাঙার অপরাধে ‘এফবি পারমিতা’ নামের ওই ট্রলারটিকে পুলিশ বাজেয়াপ্ত করেছে। পাশাপাশি, উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ মাছ নষ্ট হতে না দিয়ে মৎস্য দফতরের আধিকারিক ও স্থানীয় মৎস্যজীবী সংগঠনের উপস্থিতিতে সরকারিভাবে নিলাম করা হয়।
এই চোরাচালান চক্র নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন কাকদ্বীপ ফিশারম্যান অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক বিজন মাইতি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে এবং আইন অমান্য করে বেশ কিছু অসাধু ট্রলার মালিক সমুদ্রে মাছ ধরতে বেরিয়ে গিয়েছে। তাদের মধ্যেই আজ এই ‘পারমিতা’ ট্রলারটিকে মৎস্যজীবীরা হাতেনাতে ধরে ফেলেছে। আমাদের কাছে খবর আছে, এমন আরও অনেক ট্রলার এখনও লুকিয়ে গভীর সমুদ্রে বেআইনিভাবে ফিশিং করে চলেছে। যারা এই জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত, তাদের সকলের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”
South Twenty Four Parganas,West Bengal
