Last Updated:
Surendranath College:কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য তথা তৃণমূল নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পাঁচতলার এই এলাহী এসি রুমে রীতিমতো মাসাজ পার্লার চালাতেন তিনি৷ সেখানে নাকি কলেজের অশিক্ষক কর্মচারীদের দিয়ে মাসাজও করাতেন দেবাশিস? পাওয়া গিয়েছে মদের বোতলও৷
কলকাতা: সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ইউনিউন রুম থেকে উই পোকায় কাটা ব্যাগভর্তি টাকার নোট উদ্ধার ঘিরে মঙ্গলবার উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়৷ তবে সেই উত্তেজনা আরও চরমে পৌঁছয়, যখন জানা যায়, পড়াশোনা করার জন্য যে কলেজ, তারই ৫ তলায় ছাদে তৈরি করা রয়েছে দু’দুটি ঝাঁ চকচকে এসি বেডরুম৷ সঙ্গে অ্যাটাচড বাথরুম৷ গালভারি কথায় এগুলিকে টেরেস ফেসিলিটি বা গেস্ট রুম বললেও জানা যায়, এই রুমের চাবি থাকত নাকি শুধু তৃণমূল ছাত্রনেতাদের হাতেই৷ কারা যাতায়াত করত এখানে? ওঠে প্রশ্ন৷ উদ্ধার হয় মদের বোতল থেকে নিরোধক৷
এরপরেই ঘটনাস্থলে পৌঁছন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ৷ তিনিই কলেজের সেই টেরিস ফেসিলিটি, কমন রুম, ইউনিয়ন রুম ঘুরে দেখাম সংবাদমাধ্যমকে৷ এরপরেই সুরেন্দ্রনাথ কলেজের একটি ইউনিয়ন রুম থেকে উদ্ধার হয় একটি আগ্নেয়াস্ত্র, ওয়ান শটার৷ মুচিপাড়া থানার পুলিশ প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই সেটি বাজেয়াপ্ত করেন, পুলিশের তরফে সিল করে দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট ঘরটি৷ এরপরে কলেজের প্রিন্সিপাল এনে সিজার লিস্ট দেখানো হয় পুলিশের তরফে৷
জানা গিয়েছে, কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে দুজনের নামে থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। প্রথম, দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের, যিনি প্রাক্তন গভর্নিং কাউন্সিলের মেম্বার। দ্বিতীয় পরিতোষ দত্ত, যিনি ভেন্ডার হিসেবে কাজ করেন। আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হওয়ার ক্ষেত্রে কোনও নাম দেওয়া হয়নি। কারণ, কোটের অর্ডারে রুমগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল।
জানা গিয়েছে, দুটো সুটকেস নীল এবং মেরুন রঙের। পাশাপাশি কয়েকটি সিল করা খাম এবং প্লাস্টিকের মধ্যে বেশকিছু কাগজপত্র নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তার মধ্যে তৃণমূল ছাত্র পরিষদেরও কিছু কাগজ রয়েছে বাইরে থেকে দেখা গিয়েছে।
কলেজ কর্তৃপক্ষ জানান, কলেজে সম্পূর্ণ সিসিটিভি রয়েছে তবে ১৫-২০ দিনের বেশি স্টোর হয় না৷ এদিন, পূর্ণেন্দু প্রকাশ পাল, টিচার ইনচার্জ সুরেন্দ্রনাথ কলেজ , ডঃ মোহাম্মদি তারান্নুম, ভাইস প্রিন্সিপাল, সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজ, এবং প্রিন্সিপালের সঙ্গে গোটা ঘটনা নিয়ে আলোচনা করতে আসেন পুলিশের আধিকারিকেরা৷
