Last Updated:
West Medinipur News: জঙ্গলমহলে হাতির হামলার ঘটনা ক্রমশ উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ুর পরিবর্তন, প্রাকৃতিক আবাসস্থলের সংকোচন এবং খাদ্যের অভাবের মতো একাধিক কারণ হাতিদের আচরণে পরিবর্তন আনছে। ফলে খাদ্যের খোঁজে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে তারা, আর মানুষ-হাতির সংঘাতও বেড়ে চলেছে।
মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: এক সময় তারা ছিল শান্ত। নিজেদের মত গভীর জঙ্গলে থাকতেই ভালবাসত। কিন্তু সেই শান্ত এশীয় হাতিই এখন জঙ্গলমহল এলাকায় মূর্তিমান আতঙ্ক। জঙ্গলে কাজু বাদাম কুড়োতে গিয়ে, প্রাতঃকর্ম সারতে গিয়ে কিংবা নিছকই জঙ্গল লাগোয়া রাস্তা দিয়ে যাতায়াতের সময় হাতির হামলায় একের পর এক তরতাজা প্রাণ ঝরে যাচ্ছে। হঠাৎ সামনে পড়লেই শুঁড়ে পেঁচিয়ে আছাড় মারছে গজরাজ। কিন্তু কেন এমন ক্ষিপ্র হয়ে উঠছে মস্ত এই প্রাণীটি? গবেষকদের দীর্ঘ পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর কারণ।
আফ্রিকান হাতির তুলনায় আমাদের দেশীয় এশীয় হাতি আকারে কিছুটা ছোট এবং স্বভাবগতভাবে বেশ শান্ত প্রকৃতির হয়। তা সত্ত্বেও তাদের এই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠার নেপথ্যে মূলত আবহাওয়া ও জলবায়ুর পরিবর্তনকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। এই বদলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়েই তাদের আচরণে পরিবর্তন আসছে। পাশাপাশি, সভ্যতার উন্নতি এবং পরিবেশগত নানা কারণে জঙ্গলে হাতির স্বাভাবিক খাবারে টান পড়ছে মারাত্মকভাবে।
নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং খাদ্যের সন্ধানে তারা বাধ্য হয়ে জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। আর সেই যাত্রাপথে বাধার সৃষ্টি হলেই ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছে তাদের, বেঘোরে প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। হাতি অত্যন্ত বুদ্ধিমান এবং সমাজবদ্ধ প্রাণী। মানুষের মতই এদেরও পরিবার রয়েছে। একটি বয়স্কা স্ত্রী হাতির নেতৃত্বে এরা দলবদ্ধভাবে ঘুরে বেড়ায়। শুঁড়ের স্পর্শ, গর্জন, শব্দ কিংবা ভূমির কম্পনের মাধ্যমে এরা নিজেদের মধ্যে দ্রুত যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে। এমনকি দলের কোনও সদস্যের মৃত্যু হলে তারা মৃতদেহের চারপাশে দাঁড়িয়ে মানুষের মতই শোক পালন করে।
গবেষকরা জানাচ্ছেন, হাতির দলে যদি কোনও শাবক থাকে, তবে তাকে রক্ষা করতে দাঁতালরা বা দলের অন্য হাতিরা অত্যন্ত উগ্র হয়ে ওঠে। সেই সময় তাদের স্বাভাবিক যাত্রাপথে মানুষ চলে এলে, অথবা মানুষের অহেতুক কৌতূহলের কারণেই বিপদ বেশি ঘনিয়ে আসে। গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের স্পষ্ট বার্তা, হাতির স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ছন্দে কোনওভাবেই ব্যাঘাত ঘটান উচিত নয়। তাদের নিজস্ব পথে বাধা সৃষ্টি না করলে এবং অকারণে উত্ত্যক্ত না করলে এই প্রাণঘাতী সংঘাত অনেকটাই এড়ান সম্ভব।
Paschim Medinipur,West Bengal