সন্দীপ সরকার, কলকাতা : আপনার আমার দানের রক্ত, ‘পাচার’ হচ্ছে ভিন রাজ্যে ! স্বাস্থ্য দফতরের তদন্তে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। অন্ধকারে সরকার, কোটি কোটি টাকায় রক্ত-প্লাজমা পাচার ভিন রাজ্যে। বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক থেকে চলছে রক্ত-প্লাজমা পাচার। রক্তদান শিবির থেকে রক্ত বিক্রি, আর তা যাচ্ছে উত্তরপ্রদেশ, ঝাড়খন্ড, বিহারে। ‘রক্ত পাচারের কারবারে যুক্ত অন্তত ৭টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ক’, স্বাস্থ্য দফতরের তদন্তে উঠে এসেছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। ৪টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্কের যাবতীয় নথি বাজেয়াপ্ত করেছে স্বাস্থ্য ভবন। একটি ব্লাড ব্যাঙ্ককে আপাতত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাকি ব্লাড ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধেও ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে খবর স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে।
রক্তের স্টক মেলাতে গিয়ে চোখ কপালে উঠেছে স্বাস্থ্য কর্তাদের। ভিনরাজ্যে বিক্রি করা হয়েছে ১ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকার PRBC বা Packed Red Blood Cells. ৪ কোটি ১৫ লক্ষ টাকার ভিনরাজ্যে বিক্রি করা হয়েছে FFP বা Fresh Frozen Plasma. সরকারকে অন্ধকারে রেখে, বেসরকারি ব্লাড ব্যাংক থেকে কোটি কোটি টাকায় ভিন রাজ্যে ‘পাচার’ হয়ে যাচ্ছে রক্ত এবং প্লাজমা। স্বাস্থ্য দফতরের তদন্তে উঠে এল এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য। অথচ, প্রয়োজনের সময় জীবনদায়ি রক্ত পাচ্ছেন না রোগীরা। সরকারি হোক, বা বেসরকারি, ব্লাড ব্যাঙ্কে গেলেই শোনা যাচ্ছে একটাই কথা – ডোনার আনলে, মিলবে রক্ত।
মমতাকে ‘আল্টিমেটাম’ কল্যাণের, ‘ওদের ফেরালে আমি আর…’
স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, রক্ত পাচারের এই ‘বেআইনি কারবারে’ সামিল রাজ্যের অন্তত ৭টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাংক। তার মধ্যে ৪টি বেসরকারি ব্লাড ব্যাংকের ‘বেআইনি রক্ত ব্যবসা’-র যাবতীয় নথি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর, গত ২৩ জুন দক্ষিণ কলকাতার পদ্মপুকুরের হেলথ পয়েন্ট ব্লাড ব্যাংকের রক্তের স্টক মেলাতে গিয়ে প্রথম নজরে আসে এই অনিয়ম। দেখা যায়, শুধুমাত্র চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসেই ভিন রাজ্যের বিভিন্ন ব্লাড ব্যাঙ্কে প্রায় ৬ কোটি টাকার লোহিত কণিকা এবং প্লাজমা বিক্রি করেছে, দক্ষিণ কলকাতার এই ব্লাড ব্যাংক। এরমধ্যে, PRBC অর্থাৎ লোহিত রক্ত কণিকা বিক্রি হয়েছে ২২ হাজার ৩১৪ ইউনিট বা ৭ হাজার ৮০০ লিটার। যার বিক্রয় মূল্য ১ কোটি ৬৮ লক্ষ ৯৫ হাজার ৭০০ টাকা। এছাড়াও তিনটি বহুজাতিক সংস্থাকে ৪ কোটি ১৫ লক্ষ ১৮ হাজার ৬২৩ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে, ৩১ হাজার ১৯০ ইউনিট বা প্রায় ৬ হাজার ৩০০ লিটার প্লাজমা। হেলথ পয়েন্ট ব্লাড ব্যাংককে আপাতত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাকিদের বিরুদ্ধেও ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে খবর স্বাস্থ্য ভবন সূত্রে।
প্লাজমা বিক্রি হয়েছে হায়দরাবাদ এবং মুম্বইতে। লোহিত রক্তকণিকা বিক্রি হয়েছে বিহারের পাটনা, নওয়াদা, সিওয়ান, মুজফফরপুর, বেগুসরাই, মতিহারি, উত্তরপ্রদেশের বারাণসী, বলরামপুর এবং ঝাড়খণ্ডের বেসরকারি ব্লাড ব্যাংকে। স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, রক্তের বাল্ক ট্রান্সফার বা একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ রক্ত সরবরাহের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন রয়েছে। এই গাইডলাইনে বলা হয়েছে, এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে রক্ত ও রক্তের উপাদান বাল্ক ট্রান্সফার করতে হলে নিয়ামক সংস্থা SBTC এবং NBTC র অনুমতি নিতে হবে। এক্ষেত্রে যা মানা হয়নি বলে দাবি স্বাস্থ্য ভবনের।