কলকাতা: বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র কৃষ্ণা চক্রবর্তীর পদত্যাগ করেছেন। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেছেন তিনি। আর তিনি যেতেই বিধাননগর পুরনিগম গঙ্গাজলে ধুয়ে ‘শুদ্ধ’ করল বিজেপি। ড্রামে করে গঙ্গাজল এনে প্রথমে ছিটনো হয়। তার পর গঙ্গাজল ঢেলে ধোয়া হয় বিধাননগর পুরনিগম। এত বছরে কোনও কাজ হয়নি, চারিদিকে অব্যবস্থা, শুধু চুরি-লুঠ চলেছে বলে অভিযোগ তোলা হয়। পুরনিগমকে পাপমুক্ত করতেই এই শুদ্ধিকরণ বলে দাবি করা হয়। (Krishna Chakraborty)
বৃহস্পতিবার দুপুরে বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র পদ ছেড়েছেন কৃষ্ণা। আর তার পরই কাঁধে ড্রাম ভর্তি গঙ্গাজল নিয়ে সেখানে হাজির হন বিজেপি কর্মী তথা করুণাময়ী ৩২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সঞ্জয় পয়রা। প্রথমে গঙ্গাজল ছেটান তিনি, তার পর জল ঢেলে পরিষ্কার করতে শুরু করেন। এবিপি আনন্দে তিনি বলেন, “আমাদের মহানাগরকি কৃষণা চক্রবর্তী ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছেন বলে দেখলাম। আমার তো মনে হয় দুর্নীতির কারণে। সবক’টা পৌরমাতা এবং পৌরপিতা যারা এখানে ছিল, চুরি করে, রিগিং করে, লুঠ করে ৩টের পর কাউন্সিলর হয়েছেন।” (Bidhannagar Municipal Corporation)
আরও পড়ুন: দেশে এবার বিরাট বড় স্ক্যাম! টাকার অঙ্ক বিস্ময়কর, ১,৫১,৫০,০০,০০,০০,০০০, কী বলছে SEBI?
সঞ্জয় আরও বলেন, “বিধাননগরের নাগরিকদের কোনও পরিষেবা এরা দেয়নি। না নিকাশি ব্যবস্থা, না পরিষেবা, না রাস্তায় আলো, রাস্তাঘাট…কোনও কিছু করেনি। খানাখন্দে রাস্তাঘাট ভরে গিয়েছে বিধাননগরে। স্বচ্ছতা বজায় হয় না। যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা হয়, সেগুলি তোলা হয় না। এখানে ফুটপাত জবরদখল হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ পথচলতি মানুষ, পথচারী ফুটপাত না পেয়ে মাঝরাস্তায়…।”
আরও পড়ুন: ‘ভাইপোকে মুখ্যমন্ত্রী করতে চেয়েছিলেন মমতা, আজ খেসারত দিচ্ছেন’, এবার কটাক্ষ হুমায়ুন কবীরের
গঙ্গাজল দিয়ে শুদ্ধিকরণের কারণ জানতে চাইলে সঞ্জয় বলেন, “গঙ্গাজল দিয়ে বিধাননগর পৌরনিগমকে ধুয়ে দিলাম। কারণ এখানে যারা বসেছিল, সব পাপে ভরে গিয়েছিল। শুদ্ধিকরণের জন্য বাড়ি থেকে নিয়ে এলাম। ধুয়ে শুদ্ধিকরণ করলাম। সবক’টা চোর ছিল। প্রচুর টাকার সম্পত্তি করেছে। মানুষকে পরিষেবা দেয়নি। টিভিতে বললেন বিধাননগরবাসীর কাছে কৃতজ্ঞ। ক্ষমা চাওয়া উচিত সকলের কাছে। রাস্তাঘাট, নিকাশি, জল, আলো, জঞ্জাল সাফাই, কিছু করেনি। শুধু নিজের সম্পত্তি বাড়িয়েছে।”
এদিন ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদ ছাড়েন কৃষ্ণা। বিধাননগর পুরনিগমের কমিশনারের কাছে পদত্যাগের চিঠি জমা দেন। পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালের কাছেও পদত্যাগের চিঠির কপি পাঠিয়ে দেন তিনি। পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের আধিকারিকের কাছেও গিয়েছে পদত্যাগের চিঠির কপি। ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে এই পদত্যাগ বলে জানান। জানান, নিজের জন্য সময় চান তিনি। তবে কাউন্সিলর হিসেবে মানুষের কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন।