ডিজিটাইজেশন প্রক্রিয়ায় রাজ্য সরকারের নজরে এসেছে সীমান্তবর্তী মুর্শিদাবাদ, উত্তর দিনাজপুর এবং মালদা জেলার একাধিক সন্দেহজনক জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র।
মুর্শিদাবাদ: ২,৪০,৭৫৫ উত্তর দিনাজপুর: ১,৫৩,৬৫৮ মালদা: ১,৪৮,৮৭৭
এই জেলাগুলির নথি আরও বিস্তারিতভাবে পরীক্ষা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ডিজিটাইজেশনের পর জন্ম নথিভুক্তির সংখ্যায় অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নজরে এসেছে।
মুখ্যসচিবের কথায়, এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এখানেই কারচুপির সম্ভাবনা রয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
ডিজিটাইজেশনে কী মিলল?
রাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী—
রাজ্যের সমস্ত পুরসভা, পুরনিগম ও পঞ্চায়েতে সংরক্ষিত পুরনো জন্ম ও মৃত্যু রেজিস্টার সংগ্রহ করে দ্রুত স্ক্যান ও ডিজিটাইজ করা হচ্ছে। কাজ শেষ হলে সেগুলি সংশ্লিষ্ট দফতরে ফিরিয়ে দেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষের পরিষেবায় কোনও বিঘ্ন না ঘটে।
মুখ্যসচিব জানান, পরীক্ষামূলক যাচাইয়েই একাধিক ভুয়ো শংসাপত্রের হদিস মিলেছে। ইতিমধ্যেই কয়েকটি ক্ষেত্রে এফআইআর দায়ের হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্রের ভিত্তিতেই আধার, পাসপোর্ট, রেশন কার্ড-সহ একাধিক সরকারি পরিচয়পত্র তৈরি হয়। তাই এই নথির সত্যতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এখন থেকে ডিজিটাইজ করা পুরনো রেকর্ড এবং অন্যান্য সরকারি তথ্যভাণ্ডারের সঙ্গে মিলিয়ে তথ্য যাচাইয়ের পরই জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যু করা হবে।
কলকাতা পুরসভার বোরো-২ এলাকায় জন্ম ও মৃত্যু সংক্রান্ত নথি খতিয়ে দেখছে বড়তলা থানার পুলিশ। এই অভিযানে মহিলা পুলিশকর্মীরাও অংশ নিয়েছেন।
রাজ্য সরকার জানিয়েছে—
- জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র ইস্যুতে আরও কঠোর যাচাই ব্যবস্থা চালু হবে।
- কর্পোরেশন, পুরসভা ও পঞ্চায়েতে অভিন্ন নির্দেশিকা জারি করা হবে।
- স্থায়ী সরকারি কর্মীদের ভূমিকা আরও জোরদার করা হবে।
- সন্দেহজনক নথির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।