Last Updated:
Kunal Ghosh vs Akhruzzaman: অভিযোগ, বিধানসভায় কালীঘাটপন্থী তৃণমূূল বিধায়কদের বলতে দেওয়া হচ্ছে না। বারবার এই অভিযোগ উঠেছে। তাঁদের দাবি, যে লিস্ট পাঠানো হচ্ছে, তাতে কুণাল ঘোষের নাম থাকলেও মুখ্য সচেতক সেই নাম কেটে দিচ্ছেন। অন্য নাম যুক্ত করা হচ্ছে।
কলকাতা: গত বুধবার বিধানসভায় বেনজির দৃশ্য দেখতে পায় পশ্চিমবঙ্গের মানুষ৷ ২১ জুলাইয়ের ঠিক পরের দিনই দুই তৃণমূলের সম্মুখ সমরের সাক্ষী থাকে বিধানসভা৷ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল গোষ্ঠীকে বিধানসভায় স্বীকৃতি দিয়েছেন বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বসু৷ বিরোধী দলনেতা হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছেন ঋতব্রত, চিফ হুইপ আখরুজ্জামান৷ মঙ্গলবার সেই আখরুজ্জামান বক্তব্য রাখতে গেলেই তাতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে কালীঘাট পন্থী বিধায়ক কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে৷ পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছয় যে তাঁকে একদিনের জন্য সাসপেন্ড করতে বাধ্য হন স্পিকার৷ বিরক্ত হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও৷ তবে বৃহস্পতিবার দেখা গেল সম্পূর্ণ বিপরীত এক ছবি৷
এদিন বিধানসভার অধিবেশন শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পরে বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের আসনের দিকে যেতে দেখা যায় কুণাল ঘোষকে। সেখানে গিয়ে ফিরহাদ হাকিম, সন্দীপন সাহা, বিপ্লব মিত্র ও সমর মুখার্জির পাশে বসেন। দীর্ঘ সময় কথা বলেন ফিরহাদ হাকিম ও সন্দীপন সাহার সঙ্গে৷
তারপরেই আখরুজ্জামান এবং কুণাল ঘোষের মধ্যে মধ্যস্থতা করানোর চেষ্টা করেন ফিরহাদ হাকিম, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়৷ পরস্পরের সঙ্গে কথা বলেন আখরুজ্জামান এবং কুণাল ঘোষ। আখরুজ্জামানকে এদিন কুণাল ঘোষ বলেন, “আমার আপনার প্রতি কোন রাগ নেই। আমাকে ভুল বুঝবেন না। কিন্তু আমাকে বলতে দেওয়া হোক।’’ আখরুজ্জামান কুণাল ঘোষকে পাল্টা মজা করে বলেন, “আমার নেতা ববি দা। আমার ওপর রাগ না করে তুমি ববি দাকে বলো।” এদিন গতকালের ঘটনা আখরুজ্জামানের সঙ্গে নিয়ে কথা বলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অনেকেই।
আবার তৃণমূলের দুই শিবির নিয়ে সমস্যা হল। স্পিকার রথীন্দ্র বসু আজ মধ্যস্থতা করেন। শোভনদেব চ্যাটার্জি হাত তুলে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন অধ্যক্ষের। অধ্যক্ষ জানান, গতকালের বিষয়ে কথা হবে না। গতকাল যা ঘটেছে তা কলঙ্কজনক অধ্যায়। কুণাল ঘোষ বলে ওঠেন, ‘‘আমি ৯০ সাল থেকে এই হাউজে আসি রিপোর্টার হিসেবে।’’
শোভনদেব চ্যাটার্জি ও কুণাল ঘোষ বলেন কেন এটাকে কলঙ্কজনক বললেন? অধ্যক্ষ বলেন, ‘‘ আপনাকে আমি তিন বার বসতে বললাম৷ আপনি কেন গেলেন ওখানে? কেন ধাক্কাধাক্কি করলেন? ’’
তখন সচিবের আসনের একদিকে বিজেপি বিধায়ক, একদিকে কুণাল ঘোষ। রীতেশ তিওয়ারি ও কুণাল ঘোষ মধ্যে তর্ক হল। ফিরহাদ হাকিম শেষমেষ বোঝালেন কুণাল ঘোষকে। শঙ্কর ঘোষ বাকিদের সরিয়ে দেন। ফের হাউজ শুরু হয়।
অধ্যক্ষের সাথে কুণাল ঘোষ কথা বলেন জানান,
‘‘আমি ধাক্কাধাক্কি করিনি।’’
গত বুধবার বিধানসভায় ১ দিনের জন্য সাসপেন্ড হন কুণাল ঘোষ৷ বুধবার বিধানসভায় স্বরাষ্ট্র দফতরের বাজেট নিয়ে আলোচনায় যোগ দেন আখরুজ্জামান। বলতে ওঠার পরই তাঁর আসনের সামনে চলে যান কুণাল ঘোষ। বেলেঘাটার বিধায়ককে বলতে শোনা যায়, “আপনি আমার নাম কেটে দিচ্ছেন কেন?” সেই সময় আখরুজ্জামানের পাশে বসে ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
কুণাল ঘোষ সরে না আসায় ওয়েলে নেমে আসেন বিজেপি পরিষদীয়মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ এবং উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। কুণালকে নিজের আসনে গিয়ে বসার অনুরোধ করেন স্পিকার রথীন্দ্র বসুও। তার পরেও কুণাল সরেননি। অবশেষে মার্শাল ডেকে তাঁকে বিধানসভার বাইরে বের করে দেওয়া হয়৷
