কলকাতা : “প্রথম কাজ হবে, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস যত ফেক এসটি সার্টিফিকেট ইস্যু করেছে, সেইসব সার্টিফিকেট পুরোপুরি শেষ করে দেব।” ব্রিগেডে ঐতিহাসিক মঞ্চে মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর এবিপি আনন্দকে একথা জানিয়ে দিয়েছিলেন রানিবাঁধ বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী ক্ষুদিরাম টুডু। গতকাল তাঁকে দফতরও বণ্টন করে দেওয়া হয়। আদিবাসী উন্নয়নমন্ত্রী করা হয়েছে তাঁকে। দফতরের দায়িত্ব পাওয়ার পর এদিন সাংবাদিক বৈঠকেও তাঁর মুখে উঠে এল ফেক ST সার্টিফিকেটের কথা।
আদিবাসী উন্নয়ন দফতরের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু বলেন, “চারটি দফতর আমাকে দেওয়া হয়েছে। আগামীদিনে আমি এই চারটি দফতরেই কাজ যাতে সুচারু রূপে অর্থাৎ ভালভাবে সম্পন্ন হয় তারজন্য চেষ্টা করব। এই তৃণমূল সরকার যেভাবে মুড়ি মুড়কির মতো…ফেক ST সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে, এই ফেক ST সার্টিফিকেট আমরা নির্মূল করব। সংখ্যালঘু উন্নয়নের জন্য অবশ্যই ভাবব। কারণ, আপনারা জানেন গতকাল আমাদের মুখ্যমন্ত্রী এবং এই যে মন্ত্রিসভা যে পাস করেছি…মহিলাদের জন্য আমাদের ভোটের আগে যে ইস্তেহার ছিল অর্থাৎ অন্নপূর্ণার ভাণ্ডার ১ জুন থেকে সেটা আমরা চালু করছি।”
রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের মন্ত্রী তিনি। দায়িত্ব নিয়ে তাঁর প্রথম কাজ কী হবে সেকথা ব্রিগেডে শপথ গ্রহণের দিনই জানিয়ে দিয়েছিলেন মন্ত্রী। ক্ষুদিরাম টুডু বলেছিলেন, “মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর ভাল লাগছে। দীর্ঘিদনের যে লড়াই সেই লড়াইয়ের অন্তিম…তে পৌঁছালাম। দায়িত্বটা অনেক বেশি বেড়ে গেল। আমি ভাবিনি যে মন্ত্রী হব। কিন্তু, আমি জানি এটা বিজেপি। কারণ, আপনারা জানেন আদিবাসী রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু একেবারে প্রত্যন্ত জঙ্গলমহল থেকে। আমারও বাঁকুড়ার রানিবাঁধ বিধানসভা কেন্দ্রের বাঘডুবি গ্রাম…প্রত্যন্ত জঙ্গল… যেখানে একসময় মাওবাদীদের আখড়া ছিল, সেই জঙ্গল থেকে তুলে এনে বিজেপি আমায় মন্ত্রী করেছে।”
মন্ত্রী হিসাবে তাঁর কাজ কী হবে সেকথাও জানিয়েছিলেন ক্ষুদিরাম টুডু। তিনি বলেছিলেন, “আমার কাজ হবে আদিবাসী উন্নয়ন করা। প্রথম কাজ হবে, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেস যত ফেক এসটি সার্টিফিকেট ইস্যু করেছে, সেইসব সার্টিফিকেট পুরোপুরি শেষ করে দেব। পরবর্তী কাজ হবে, আদিবাসীদের হোস্টেল ব্যবস্থা আমি চালু করব।” তাঁকে এবিপি আনন্দর তরফে প্রশ্ন করা হয়, মুখ্যমন্ত্রী নাম শুভেন্দু অদিকারী। কেমন লাগছে ? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, “ভীষণ ভাল লাগছে। কাজের লোক। লড়াই করার লোক।”