কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা: মূলত, কাল NDA বৈঠকে তৃণমূলত্যাগী NCPI সাংসদদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আজই নবান্নে সাক্ষাৎ করেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিজেপিতে যোগদানের জল্পনার মধ্যেই নবান্নে পৌঁছে যান তিনি। তৃণমূলত্যাগী NCPI সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর প্রায় ৪০ মিনিট কথা হয়েছে বলে খবর।
আরও পড়ুন, BJP-তে সরাসরি যোগ দেবে আপনাদের সাংসদদের টিম ? বিশেষ সাক্ষাৎকারে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়
আজ দুপুর পর্যন্ত ঠিক ছিল, যে মুখ্যমন্ত্রী আগামীকাল দিল্লি যাবেন। সমস্ত এনসিপিআই সাংসদদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা ছিল তাঁর। সেই বৈঠকে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বেরও উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু আজকের বিকেলের পরে তা পরিবর্তন ঘটে। মুখ্যমন্ত্রীর দিল্লি যাওয়া স্থগিত রাখা হয়। এবং তড়িঘড়ি করে আজকেই একটা বৈঠক হয় নবান্নে। প্রায় ৪০ মিনিট সময়, মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যান্য সাংসদরা এইমুহূর্তেই দিল্লিতেই তাঁরা রয়েছেন।
NDA-র শরিক হিসাবে NCPI-এর সঙ্গে কীভাবে আরও ভাল করে সমন্বয়সাধন করা যায় তা নিয়ে দু’জনের আলোচনা হয় বলে সূত্রের খবর। NCPI সূত্রে খবর, বিজেপি নেতৃত্বাধীন NDA-এর দ্বিতীয় বৃহত্তম শরিক হিসাবেই থাকতে চায় NCPI। এ বিষয়ে মুখ্য়মন্ত্রীর সঙ্গে সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের আলোচনা হয়। NDA-এর বৈঠকে উপস্থিত থাকবে NCPI. NDA-র শরিক হিসাবে NCPI-এর সঙ্গে কীভাবে আরও ভাল করে সমন্বয়সাধন করা যায় তা নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী ও সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বৈঠকে আলোচনা হয়।’কালীঘাট তৃণমূল’সাংসদ সৌগত রায় বলেন, এর কোনও গুরুত্বই নেই। না মুখ্যমন্ত্রীর গুরুত্ব আছে। মুখ্যমন্ত্রী তো এখানে ওখানে দৌড়ে বেড়াচ্ছে। আর সাম্প্রদায়িক কথাবার্তা বলছে। ও মিটিং করে কী করবে বাংলার?
প্রথমে তৃণমূলে বিদ্রোহ ঘোষণা, তারপর NCPI-তে মিশে যাওয়া এবং NDA-কে সমর্থনের ঘোষণা।আপাতত এই অবধি এগিয়েছেন লোকসভায় তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদরা। তবে NCPI-এর আবেদনের ভিত্তিতে এখনও তাদের পৃথক ব্লক আখ্য়া দেওয়া হয়নি। কেবলমাত্র লোকসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য় আগে যে আসন বরাদ্দ ছিল, তা এখন বরাদ্দ করা হয়েছে, NCPI-এর লোকসভার দলনেতা সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের জন্য়। প্রথম সারি থেকে দ্বিতীয় সারিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে।
কুণাল ঘোষ বলেছেন, ‘কে এই NCPI? বিশ্বাসঘাতক। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের প্রতীকে জিতে এই সব করছেন। যারা বিজেপি নেতা তাদের সাথে মাখামাখি করছেন। বকলমে তারা বিজেপি হয়ে গেছেন। এই ২০ জন সাংসদ। যারা বিজেপি বিরোধী ভোট দিয়ে জিতিয়েছিল তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা।’ আগামী দিনে বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদদের সম্পর্ক কোন পথে এগোয়, সেদিকে নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।