কলকাতা: অষ্টম বেতন কমিশনকে ঘিরে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে প্রত্যাশা ক্রমশ বাড়ছে। বর্তমানে দেশের ৫০ লক্ষেরও বেশি কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং প্রায় ৬৫ লক্ষ পেনশনভোগী রয়েছে। যাঁরা কমিশনের সুপারিশের অপেক্ষা করছেন। মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় হিসাব করে বেতন ও পেনশনে সংশোধন আনার লক্ষ্যে গঠিত এই কমিশনের সুপারিশ আগামী দিনে লক্ষ লক্ষ পরিবারের আর্থিক অবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
আরও পড়ুন: প্রতি লিটার পেট্রোলের দাম হতে পারে ৮২ টাকা, আপনার গাড়ি কি চলবে E85 পেট্রোলে?
চলতি বছরের জানুয়ারিতে গঠিত অষ্টম বেতন কমিশনকে ১৮ মাসের মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কমিশন বিভিন্ন কর্মী সংগঠন, পেনশনভোগী সংগঠন এবং অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে। সেই আলোচনায় অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে বয়সভিত্তিক পেনশন বৃদ্ধির দাবি।
পেনশনভোগী সংগঠনগুলির প্রস্তাব অনুযায়ী, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পেনশনের পরিমাণও ধাপে ধাপে বৃদ্ধি করা উচিত। প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ৬৫ বছর বয়সে শেষ প্রাপ্ত বেতনের ৭০ শতাংশ, ৭০ বছরে ৭৫ শতাংশ, ৭৫ বছরে ৮০ শতাংশ, ৮০ বছরে ৮৫ শতাংশ, ৮৫ বছরে ৯০ শতাংশ এবং ৯০ বছর বা তার বেশি বয়সে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন দেওয়া যেতে পারে। এর ফলে প্রবীণ নাগরিকদের চিকিৎসা ও দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপ অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তখনই লোকসভা ও রাজ্যসভায় ভাঙল তৃণমূল, কী কী লাভ হতে পারে বিজেপির?
ন্যাশনাল কাউন্সিল-জয়েন্ট কনসালটেটিভ মেশিনারির (NC-JCM) কর্মী সংগঠনও পেনশন কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের দাবি তুলেছে। তাদের প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমান ৫০ শতাংশের পরিবর্তে পূর্ণ পেনশন শেষ প্রাপ্ত বেতনের ৬৭ শতাংশ করা হোক। পাশাপাশি পারিবারিক পেনশন ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার এবং বর্ধিত পারিবারিক পেনশনের সুবিধা ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত চালু রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।
যদিও কমিশন এখনও পরামর্শ ও আলোচনা পর্যায়ে রয়েছে। আসলে কী হবে, সেটা যদিও এখনও নির্দিষ্ট হয়নি। তবুও বয়সভিত্তিক পেনশন বৃদ্ধির এই প্রস্তাব ইতিমধ্যেই অবসরপ্রাপ্তদের মনে নতুন আশার আলো সঞ্চার করেছে।