Last Updated:
Donald Trump: স্যুইজারল্যান্ডে শান্তি নিয়ে আলোচনার মাঝেই ফের তেহরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরানকে কড়া বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট৷
আমেরিকা এবং ইরানের মধ্যে শান্তি নিয়ে চলছে প্রথম দফার আলোচনা৷ স্যুইজারল্যান্ডে রবিবার দুই দেশের মধ্যে ছিল বিশেষ বৈঠক৷ যদিও তার মাঝেও ফের তেহরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প৷ রবিবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “তোমরা যদি এটি (হরমুজ প্রণালী) বন্ধ কর, তাহলে তোমাদের আর কোনও দেশই থাকবে না।”
ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালীর ‘গার্ডিয়ান অফ অ্যাঞ্জেল’ হয়ে উঠবে আমেরিকা৷ এই করিডর দিয়ে যে তেল রফতানি হয় তার ২০ শতাংশ পর্যন্ত দাবি করতে পারে ওয়াশিংটন৷ এমনই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প৷ ট্রাম্পের কথায়, “প্রয়োজনে আমরা হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেব। ওরা যদি চুক্তি না করে, তাহলে আমরা টোল আদায় করব।”
এর আগেও ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত শান্তি চুক্তি ৬০ দিনের মধ্যে না হলে আমেরিকা নিজস্ব সামুদ্রিক টোল ব্যবস্থা চালু করতে পারে। তাঁর দাবি, পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মার্কিন সেনাবাহিনী যে ভূমিকা পালন করছে, সেই পরিষেবার ন্যায্য মূল্য হিসেবেই এই টোল আদায় করা হবে।
এর আগে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছিলেন, তেহরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার কোনওভাবেই ছাড়বে না এবং আমেরিকাও শেষ পর্যন্ত সেই অধিকার মেনে নেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।
এর জবাবে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে বলেন, “ওকে (পেজেশকিয়ানকে) মুখ সামলে কথা বলতে হবে। নিজেকে ঠিক করতে হবে, না হলে আমরা দেশের বাকি অংশও দখল করে নেব।” একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরান যদি চূড়ান্ত চুক্তির ব্যাপারে আন্তরিক না হয়, তাহলে ওয়াশিংটনের হাতে আরও নানা বিকল্প রয়েছে। তেল রফতানি প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে হওয়া সমঝোতার ফলে শনিবার পারস্য উপসাগর থেকে ১ কোটি ৯০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রফতানি হয়েছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের মধ্যেই রবিবার স্যুইজারল্যান্ডে আমেরিকা ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। প্রায় ১০ সপ্তাহেরও বেশি সময় পর মুখোমুখি আলোচনায় বসেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। বৈঠকের মূল আলোচ্য বিষয় ছিল ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং লেবাননে হিজবোল্লা এবং ইজরায়েলের চলমান এই সংঘাত৷
মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন আমেরিকার ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভান্স৷ তিনি বলেন, যদি আঞ্চলিক অস্থিরতার অন্যতম চালিকাশক্তি হওয়ার ভূমিকা ছেড়ে দিতে রাজি হয়, তাহলে ওয়াশিংটন ইরানের সঙ্গে সম্পর্কের মৌলিক পরিবর্তন ঘটাতে প্রস্তুত। তিনি আরও জানান, ট্রাম্প “সম্পূর্ণ আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি”-র পক্ষে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং লেবাননে ইজরায়েল-হিজবুল্লাহ সংঘাত থামানোর ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র অগ্রগতি করছে।
Kolkata,West Bengal
