১৪তম পাসপোর্ট সেবা দিবস উপলক্ষে জারি করা এক বিবৃতিতে MEA জানায়, পাসপোর্ট মূলত আন্তর্জাতিক ভ্রমণ সহজ করার জন্য জারি করা একটি ভ্রমণ-সংক্রান্ত নথি।
যদিও পাসপোর্ট শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকদেরই দেওয়া হয়, তবুও মন্ত্রকের মতে শুধুমাত্র পাসপোর্টের অধিকারী হওয়া নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা যায় না। নতুন চিপ নির্ভর পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্যও নাগরিকদের উৎসাহিত করে বিদেশ মন্ত্রক। পৃথিবীর সর্বত্র চিপ নির্ভর পাসপোর্টের গ্রহণযোগ্যতা কত, জালিয়াতির ঝুঁকি কতটা কম, বোঝানো হয় ব্য়াখ্যা সহকারে। আর তাতেই ভারতের পাসপোর্টকে কেবলমাত্র ‘ট্রাভেল ডকুমেন্ট’ বলে উল্লেখ করা হয়।
এই বক্তব্যের ফলে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে যে কোন সরকারি নথিকে ভারতীয় নাগরিকত্বের নির্ভরযোগ্য ও চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ধরা যেতে পারে। বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই আইনগত ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল।
কেন পাসপোর্টকে নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে ধরা হয় না?
ভারতীয় পাসপোর্ট ভারত সরকার ভারতীয় নাগরিকদের আন্তর্জাতিক ভ্রমণের জন্য প্রদান করে। তবে MEA জানিয়েছে, এর মূল উদ্দেশ্য নাগরিকত্বের সনদ হিসেবে কাজ করা নয়; বরং এটি একটি ভ্রমণ নথি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ভারতীয় পাসপোর্টে নিজেই উল্লেখ থাকে যে এটি ভারত সরকারের সম্পত্তি এবং সরকারের প্রয়োজন হলে তা জমা দিতে হবে। ভারতের পাসপোর্ট শুধুমাত্র ভারতীয় নাগরিকদেরই দেওয়া হয়। ভারতের নাগরিক না হলে কারও পক্ষে ভারতীয় পাসপোর্ট পাওয়া সম্ভব নয়। এমনকী, ভারতে দ্বৈত নাগরিকত্বেরও সুযোগ নেই। অন্য কোনও দেশের নাগরিকত্ব নিলে ফেরত দিতে হয় ভারতীয় পাসপোর্ট। তা সত্ত্বেও একে কেন নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে গণ্য করা হবে না, তা নিয়ে কিছুটা হলেও বিভ্রন্তি ছড়িয়েছে ৷
আধার ও ভোটার পরিচয়পত্রের ক্ষেত্রে কী অবস্থা?
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে নাগরিকত্ব-সংক্রান্ত নথি নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় পুনর্বিবেচনা (Special Intensive Revision বা SIR) সংক্রান্ত শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্ট মন্তব্য করে যে, আধার কেবল পরিচয় প্রমাণের নথি, এটি নাগরিকত্বের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়।
একইভাবে, ভোটার পরিচয়পত্র মূলত ভোটদান ও বাসস্থানের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। শুধুমাত্র ভোটার কার্ড থাকলেই কেউ ভারতীয় নাগরিক বলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণিত হন না।
জন্মসূত্রে কারা ভারতীয় নাগরিক হিসেবে বিবেচিত হন?
ভারতের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, ২৬ জানুয়ারি ১৯৫০ থেকে ১ জুলাই ১৯৮৭-এর মধ্যে ভারতে জন্মগ্রহণকারী ব্যক্তিরা জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে গণ্য হন।
১ জুলাই ১৯৮৭ থেকে ৩ ডিসেম্বর ২০০৪-এর মধ্যে জন্মগ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে অন্তত একজন অভিভাবকের ভারতীয় নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক।
৩ ডিসেম্বর ২০০৪ বা তার পরে জন্মগ্রহণকারীরা তখনই জন্মসূত্রে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে গণ্য হবেন, যদি তাঁদের উভয় অভিভাবকই ভারতীয় নাগরিক হন, অথবা একজন ভারতীয় নাগরিক হন এবং অন্যজন অবৈধ অভিবাসী না হন।