এই উদ্যোগের অধীনে চালু হয় তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প — Pradhan Mantri Jeevan Jyoti Bima Yojana (PMJJBY), Pradhan Mantri Suraksha Bima Yojana (PMSBY) এবং Atal Pension Yojana (APY)। লক্ষ্য ছিল স্পষ্ট: অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক, দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী বা কৃষিশ্রমিকদেরও ব্যাংক-ভিত্তিক স্বল্পমূল্যের সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনা।
২০১৫-র বাস্তবতা: বীমা ও পেনশনের বাইরে ছিল অধিকাংশ ভারতীয়
২০১৫ সালে ভারতের মাত্র প্রায় ২০ শতাংশ মানুষের কোনও না কোনও ধরনের বিমা কভার ছিল। অন্যদিকে, দেশের ৯০ শতাংশেরও বেশি কর্মসংস্থান ছিল অসংগঠিত ক্ষেত্রে, যেখানে পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ড বা কর্পোরেট বিমার মতো সুবিধা কার্যত অধরাই ছিল।
এই পরিস্থিতিতে জনধন অ্যাকাউন্টকে ভিত্তি করে জন সুরক্ষা প্রকল্পগুলি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। কোনও মেডিক্যাল পরীক্ষা নয়, আলাদা কেওয়াইসি নয় — শুধুমাত্র ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে অটো-ডেবিট অনুমোদন দিলেই মিলত বিমা সুরক্ষা।
কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ জানিয়েছেন, ২০২৬ সালের মধ্যে এই তিন প্রকল্প মিলিয়ে মোট নাম নথিভুক্তির সংখ্যা পৌঁছেছে ৯৪.৫ কোটিতে।
* PMSBY-তে নাম নথিভুক্ত হয়েছে ৫৮.০৯ কোটি
* PMJJBY-তে ২৭.৪৩ কোটি
* APY-তে ৯ কোটির বেশি গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন
বিশেষত ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে APY-তে রেকর্ড ১.৩৫ কোটি নতুন গ্রাহক যোগ দিয়েছেন।
দাবি নিষ্পত্তির হারই বাড়িয়েছে আস্থা
PMJJBY প্রকল্পের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল এর দাবি নিষ্পত্তির হার। প্রকল্প চালুর পর থেকে ১০.৭ লক্ষের বেশি পরিবারকে মোট ২১,৫০০ কোটিরও বেশি টাকা প্রদান করা হয়েছে।
দাবি নিষ্পত্তির হার দাঁড়িয়েছে ৯৯.৯৫ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি ১০ হাজার দাবির মধ্যে মাত্র পাঁচটিরও কম ক্ষেত্রে সমস্যা হয়েছে।
গ্রামীণ এলাকার বহু পরিবারের কাছে এই বিমার ২ লক্ষ টাকা হয়ে উঠেছে সংকটের সময়ে সবচেয়ে বড় সহায়তা। মাত্র বছরে ৪৩৬ টাকা প্রিমিয়ামে এই সুবিধা পাওয়া যায় — অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১.২০ টাকা খরচে।
অটল পেনশন যোজনা অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকদের বার্ধক্যের আর্থিক নিরাপত্তা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে তৈরি হয়েছিল।
১৮ বছর বয়সে কেউ যদি মাসে প্রায় ৪২ টাকা জমা করেন, তাহলে ৬০ বছর বয়সের পর মাসিক ১,০০০ টাকা পেনশন নিশ্চিত হয়। বেশি অবদান রাখলে মাসিক পেনশন ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। পাশাপাশি স্বামী বা স্ত্রীও সুরক্ষার আওতায় থাকেন এবং মৃত্যুর পর নমিনির হাতে কর্পাস পৌঁছে যায়।
২০২৬ সালের জানুয়ারিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা APY প্রকল্পের মেয়াদ ২০৩০-৩১ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বর্তমানে প্রায় ১৬ লক্ষ ব্যাংকিং করেসপন্ডেন্ট দেশের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত এই পরিষেবা পৌঁছে দিচ্ছেন। ২০২৫ সালের জুলাই থেকে অক্টোবর পর্যন্ত পরিচালিত আর্থিক অন্তর্ভুক্তি অভিযান ২.৭০ লক্ষ গ্রাম পঞ্চায়েত ও শহুরে এলাকায় সরাসরি সচেতনতা ও নাম নথিভুক্তির কাজ করেছে।
এছাড়া জন সুরক্ষা পোর্টালের মাধ্যমে এখন নাম নথিভুক্তি ও দাবি নিষ্পত্তির পুরো প্রক্রিয়াই ডিজিটাল হয়েছে।
সরকার বর্তমানে PMJJBY এবং PMSBY-র বিমা কভার ২ লক্ষ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ লক্ষ টাকা করার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। এটি “Insurance for All by 2047” লক্ষ্য পূরণের দিকেই বড় পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
২০১৫ সালের আগে ভারতের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা মূলত সংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। জন সুরক্ষা প্রকল্পগুলি সেই চিত্র অনেকটাই বদলে দিয়েছে। আজ ৯৪ কোটির বেশি নাম নথিভুক্তি, হাজার হাজার কোটি টাকার দাবি নিষ্পত্তি এবং কোটি কোটি অসংগঠিত শ্রমিকের পেনশন সুরক্ষা প্রমাণ করছে– সামাজিক সুরক্ষার অধিকার এখন আর কেবল নির্দিষ্ট শ্রেণির মানুষের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। “সবকা সাথ, সবকা বিকাশ”-এর বাস্তব রূপ হিসেবেই এই প্রকল্পগুলিকে দেখা হচ্ছে।