Last Updated:
Sona Pappu Case Update: কলকাতায় ফের ইডির তৎপরতা ঘিরে চাঞ্চল্য। শুক্রবার সকাল ছ’টা নাগাদ চারটি গাড়িতে করে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পার্কস্ট্রিটের রয়েড স্ট্রিটে অবস্থিত ‘The Corporate’ ক্যাফেটেরিয়া কাম হোটেলে পৌঁছয় ইডির সাত সদস্যের তদন্তকারী দল।
কলকাতা: ইডি হেফাজতে বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুকে জিজ্ঞাসাবাদের পর একাধিক বিস্ফোরক তথ্য উঠে এসেছে তদন্তকারী আধিকারিকদের হাতে। একাধিক সংস্থার মাধ্যমে কালো টাকা, সাদা করার দীর্ঘ কৌশল চালিয়েছে সোনা পাপ্পু। সেই সমস্ত টাকা কোন কোন প্রভাবশালীর কাছে পৌঁছে গিয়েছিল, তাঁদের মাধ্যমে কোন কোন সংস্থায় সেই টাকা খাটানো হয়েছিল, সেই তথ্য পেতে অ্যাকশন মুডে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
ইডির স্ক্যানারে এই মুহূর্তে একাধিক সংস্থা। শুক্রবার সকাল ছ’টা চারটি গাড়িতে ইডির ৭ তদন্তকারী আধিকারিক কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পার্কস্ট্রিটের, রয়েড স্ট্রিট ‘The Corporate’ ক্যাফেটেরিয়া কাম হোটেল-এ ঢুকেছে। সূত্রের খবর, অভিযুক্তের জমি জালিয়াতি মামলার তদন্তে এই তল্লাশি অভিযান। বালিগঞ্জের একটি আবাসনেও হানা দিয়েছে ইডি টিম, সেখানে এক ব্যবসায়ীর ফ্ল্যাটে চলছে তল্লাশি। অতুল কাটারিয়া নামে এক ব্যবসায়ীর শরৎ বসু রোডের আবাসনেও ইডি তল্লাশি চালাচ্ছে।
গোলপার্কের কাঁকুলিয়া রোডে বোমাবাজি ও গুলি ছোড়ার ঘটনার পর থেকেই সোনা পাপ্পু কার্যত আত্মগোপন করেছিলেন বলে অভিযোগ। সেই সময় থেকেই একাধিকবার ইডির তরফে শমন পাঠান হলেও গরহাজির ছিল। তদন্তে নেমে তার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় নগদ টাকা, আগ্নেয়াস্ত্র এবং সোনা-রুপোর গয়না। তদন্তকারীদের দাবি, জমি দখল, বেআইনি নির্মাণ এবং আর্থিক প্রতারণার সঙ্গে যুক্ত একটি চক্রের গুরুত্বপূর্ণ মাথা ছিল সোনা পাপ্পু। অভিযোগ, বিভিন্ন নির্মাণ সংস্থার কাছ থেকে বিপুল টাকা তোলা হত এবং সেই অর্থ বিভিন্ন প্রভাবশালীদের কাছে পৌঁছে যেত। এমনকি হাওয়ালা লেনদেনের সূত্রও তদন্তকারীদের হাতে এসেছে। এই মামলায় ইতিমধ্যেই ব্যবসায়ী জয় কামদার এবং কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কর্তা শান্তনু সিনহাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, জমি দুর্নীতি ও প্রতারণা মামলায় নাম জড়িয়েছিল সোনা পাপ্পুর। তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ইডি আধিকারিকরা আর্থিক লেনদেনের বেশ কিছু সূত্র পান। সেই তদন্তের সূত্র ধরেই সামনে আসে ব্যবসায়ী জয় কামদারের নাম। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সোনা পাপ্পু কাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ব্যবসায়ী জয় কামদারকে তলব করা হয়েছিল। কিন্তু ইডির হাজিরা এড়িয়ে যান। পরে জয়ের বেহালায় বাড়িতে হানা দেয় এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সিজিও কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় ইডি। দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পরই তাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর জয় কামদারকে জেরা করে উঠে আসে কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসের নাম। ইতিমধ্যেই তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
Kolkata,West Bengal
