Last Updated:
Adhir Ranjan Chowdhury: সব শেষে মুর্শিদাবাদের তিন সাংসদের বিদ্রোহী দলে চলে যাওয়া নিয়ে অধীরের কটাক্ষ, ‘‘ ওই ক্রিকেটারকে ডেকে আনা হয়েছিল অধীর চৌধুরির বিরুদ্ধে। মুর্শিদাবাদ জেলার মানুষ এখন মীরজাফর আর ঘসিটি বেগমকে দেখতে পাচ্ছে। এদের কেউ ক্ষমা করবে না৷’’
নয়াদিল্লি: ২০০৭ সাল নন্দীগ্রাম ‘পুনরুদ্ধারে’র ঘটনার পরে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মুখে শোনা গিয়েছিল সেই অবিস্মরণীয় লাইন – ‘They have been paid back in their own coin’৷ ২০২৬ সালে এসে তৃণমূল কংগ্রেসের ভাঙনের মুহূর্তে প্রদেশ কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর মুখে উঠে এল সেই একই প্রবাদ৷ তৃণমূল কংগ্রেসকে লক্ষ্য করে৷ প্রসঙ্গত, সোমবার দিল্লিতে ছিল হাইভোল্টেজ ডে৷ একদিকে INDIA জোটের বৈঠক, অন্যদিকে, এনডিএ-তে যোগ দিতে চেয়ে স্পিকারকে চিঠি দিলেন৷ এনডিএ-র বৈঠকেও আগের মতো জোরাল উপস্থিতি নজর পড়েনি৷ মঙ্গলবার বিকেলে অবশ্য সনিয়া গান্ধির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন মমতা৷
পরিষদীয় দলের পাশাপাশি, সংসদীয় দলও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতছাড়া হয়ে যাওয়া প্রসঙ্গে এদিন প্রদেশ কংগ্রেস নেতা তথা দেশের প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা অধীর চৌধুরী বলেন, ‘‘গোটা তৃণমূল পার্টি বিজেপির কাছে আত্মসমর্পণ করে দিয়েছেন। তৃণমূল নেত্রী এবং খোকাবাবু দেখুন। পোয়েটিক জাস্টিস। আপনি যা করেছেন তার ফল পাচ্ছেন। ইউ আর বিং পেইড উইথ ইউর ওউন কয়েনস।’’
একসময় তিল তিল করে কংগ্রেস ‘ভাঙিয়ে’ই তৃণমূল কংগ্রেস ‘খাড়া’ করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই অভিযোগ মনে করিয়ে অধীর চৌধুরী বলেন, ‘‘আমাদের বিধায়ক, পুরসভা, পঞ্চায়েত দখল করেছিলেন পুলিশ দিয়ে। তখন আমরা প্রতিবাদ করলে বলতেন, উন্নয়নে নাকি সামিল হয়েছেন। ’’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁর সরাসরি কটাক্ষ, ‘‘যদি অপমান বলে কিছু থাকে তাহলে স্বীকার করে নিন, আপনিই এই দলভাঙার কাজ শুরু করেছিলেন সেই দলভাঙার শিকার হলেন আপনি৷’’
সোমবার ভুপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে বৈঠক করেন তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদেরা৷ সেই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে অধীর চৌধুরী বলেন, ‘‘যিনি আজকের মুখ্যমন্ত্রী তিনি তো এককালে তৃণমূলের নেতা ছিলেন। তাই তার কাছে গিয়ে আত্মসমর্পণ করছে। আজকের মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরেই তো নন্দীগ্রাম আন্দোলন করে আপনি মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন। ’’
অধীর চৌধুরীর মতে শুধুমাত্র বামেদের ক্ষমতাচ্যুত করতেই ‘তৃণমূল’ তৈরি করেছিলেন মমতা৷ অদীর বলেন, ‘‘আপনি একটা রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে দল করেছিলেন, বামেদের সরাতে হবে। আর কোনও আইডিওলজিক্যাল ভিত্তি ছিল না। বামফ্রন্ট চলে যাওয়ার পর কোনও রাজনৈতিক লক্ষ্য রইল না খুনি গুন্ডা পুলিশকে নিয়ে আপনি রাজ্য চালিয়েছেন।’’
অধীরের মতে, ‘‘২/৩শ নিয়ে মার্জার হওয়ার কথা বলা আছে। কিন্তু যদি বলে, যদি বেশি অংশ সাংসদ থাকলে দলটাকেই যদি তাঁদের বলে ক্লেইম করেন তখন কী হবে? তখন স্পিকার, নির্বাচন কমিশন, আইনের বিষয় আসবে। স্পিকারের উপর নির্ভর করছে, উনি ব্লক দিয়ে দিতে পারেন। উকিলবাবু এখন কিছু না পেয়ে বলছেন। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় যখন আমাদের বিধায়কদের নিয়েছিলেন, তখন বলেছিলেন দল ছেড়ে আনতে? তাহেরকে আমি এমএলএ বানিয়েছিলাম। তখন তো উকিল বাবু আর মমতা কিছু বলেলননি৷’’
এদিন কালীঘাটের তৃমমূল কার্যালয়ে সিআইডি পৌঁছনো নিয়ে অধীরের প্রতিক্রিয়া, ‘‘(অভিষেককে)এবার জেলে ভরে দিক। বারবার নোটিস এড়াবেন কেন?’’
New Delhi,Delhi
