নয়াদিল্লি: পরমাণু নীতি কি বদলাল ভারত সরকার? সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর প্রেক্ষিতে এমনই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ শান্তিকালীন পরিস্থিতিতে ভারত ১২টি Nuclear Warhead মোতায়েন করেছে বলে খবর। এই দাবি সত্য় হলে, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন করল ভারত। জোর চর্চা শুরু হয়েছে বিষয়টি নিয়ে। (India Deploys Nuclear Warheads)
পরমাণু অস্ত্র মোতায়েনের অর্থ, পরমাণু ক্ষমতাসম্পন্ন ক্ষেপণাস্ত্রকে মিসাইল সিস্টেম, সাবমেরিন বা যুদ্ধবিমানের সঙ্গে যুক্ত করা। পরমাণু অস্ত্র মোতায়েনের অর্থ, ওয়ারহেডগুলিকে নিরাপদে, গুদামে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় না রেখে, বাহকের সঙ্গে যুক্ত করে তাৎক্ষণিক ব্যবহারের উপযুক্ত করে তোলা। সাধারণত যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এমন পদক্ষেপ করা হয়। তাই বিষয়টি নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। (India Nuclear Policy)
আরও পড়ুন: তিনিও কি ‘নতুন’ তৃণমূলে? না কি মমতার পাশে থাকবেন? মুখ খুললেন তারকা সাংসদ দেব
Stockholm International Peace Research Institute (SIPRI)-র সাম্প্রতিক রিপোর্টে এই দাবি করা হয়েছে। তাবড় দেশের অস্ত্রশস্ত্রেরর উপর নজরদারি চালায় SIPRI. ২০২৬ সালের বার্ষিক রিপোর্টে তারা জানিয়েছে, ১২টি পরমাণু ওয়ারহেড মোতায়েন করেছে ভারত। কিছু ওয়ারহেটকে উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার পরিচালনা নিয়ে দীর্ঘ সময় যে অবস্থানে ছিল ভারত, তা বদলাচ্ছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
আরও পড়ুন: ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান কি হবে? প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বেরিয়ে দেব বললেন, ‘শুভেন্দুদা বলেছেন…’
গত কয়েক বছরে পরমাণু অস্ত্রের সংখ্য়াও বাড়িয়েছে ভারত। ২০১৫ সালে যেখানে ভারতের কাছে ১৮০টি ওয়ারহেড ছিল, ২০২৬ সালে তা বেড়ে ১৯০ হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে রিপোর্টে। যে কোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে এবং তা মোতায়েন নিয়ে ভারত অবস্থান বদলাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বহু দশক ধরে বিশেষজ্ঞদের ধারণা ছিল যে, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ভারত পরমাণু ওয়ারহেডগুলিকে ক্ষেপণাস্ত্র এবং উৎক্ষেপণ প্ল্যাটফর্ম থেকে আলাদা রাখে। কোনও দুর্ঘটনা যাতে না ঘটে, ভুল করে যাতে বেরিয়ে না যায় এবং নিজেদের সংযত অবস্থান থেকে না সরতেই এমন নীতি বজায় ছিল। কিন্তু SIPRI-র সাম্প্রতিকতম রিপোর্টে বলা হয়, ‘দীর্ঘ সময় ধরে ধারণা ছিল, ভারত স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পরমাণু ওয়ারহেড আলাদা মজুত রাখে। কিন্তু ক্ষেপণাস্ত্রগুলিকে ক্যানিস্টারে যুক্ত করা এবং জলভাগে টহল সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ভারত হয়ত স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ক্ষেপণাস্ত্রগুলিতে উৎক্ষেপকের সঙ্গে যুক্ত করার দিকে এগোচ্ছে’।
পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘নো ফার্স্ট ইউজ়’ নীতি মেনে চলে ভারত। অর্থাৎ শত্রুপক্ষের তরফে পরমাণু হামলা না হলে, ভারত প্রথমে পরমাণু অস্ত্র প্রয়োগ করবে না। পরমাণু অস্ত্র মোতায়েন করে ভারত সেই নীতি থেকে সরছে কি না, শুরু হয়েছে জল্পনা।